নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হলফনামায় আয়ের অসঙ্গতি ও আয়বহির্ভূত সম্পত্তির মিথ্যা অভিযোগে গ্রেপ্তার হতে পারেন, এই আশঙ্কা প্রকাশ করে কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হলেন রাজারহাট-গোপালপুরের প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক তথা বিশিষ্ট সঙ্গীতশিল্পী অদিতি মুন্সি এবং তাঁর স্বামী দেবরাজ চক্রবর্তী। রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাঁদেরকে হেনস্থা ও গ্রেপ্তার করার চক্রান্ত চলছে, এই অভিযোগে বৃহস্পতিবার স্বামী-স্ত্রী দুজনেই আদালতে আগাম জামিনের আবেদন জানান। তাঁদের আইনজীবীর বিশেষ আবেদনের ভিত্তিতে বিচারপতি জয় সেনগুপ্ত মামলা দায়ের করার অনুমতি দিয়েছেন এবং শুক্রবারই এই মামলার শুনানির প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, বাংলায় ক্ষমতা দখলের মরিয়া চেষ্টায় ব্যর্থ হয়ে বিজেপি যেভাবে কেন্দ্রীয় এজেন্সি ও পুলিশকে ব্যবহার করে বিরোধী দলের নেতাদের একের পর এক মিথ্যা মামলায় জড়াচ্ছে, তার বিরুদ্ধেই এই আইনি পদক্ষেপ।
২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে রাজারহাট-গোপালপুর কেন্দ্রে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আস্থায় ভর করে বিপুল ভোটে জয়ী হয়েছিলেন তারকা প্রার্থী অদিতি মুন্সি। সেবার হেভিওয়েট বিজেপি প্রার্থী শমীক ভট্টাচার্যকে প্রায় ২৫ হাজার ভোটে পরাজিত করে তিনি বিধায়ক হন, যেখানে তাঁর সর্বক্ষণের সঙ্গী ও বিধাননগরের মেয়র পারিষদ দেবরাজ চক্রবর্তীর সাংগঠনিক দক্ষতা বড় ভূমিকা নিয়েছিল। ২০২৬ সালের সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনেও তৃণমূল কংগ্রেস অদিতি মুন্সির ওপর ভরসা রেখেছিল। তবে নির্বাচনী প্রচারে কেন্দ্রের শাসক দল বিজেপির ছড়ানো মিথ্যা প্রোপাগান্ডা এবং মেরুকরণের রাজনীতির জেরে শেষ পর্যন্ত বিজেপির তরুণজ্যোতি তিওয়ারির কাছে পরাজিত হতে হয় অদিতিকে। নির্বাচনে হারের পরপরই রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতে এই দম্পতিকে নিশানা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠছে।
এই আইনি সংঘাতের আবহেই গত মঙ্গলবার পুলিশ অমিত চক্রবর্তী নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে, যাকে দেবরাজ চক্রবর্তীর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ বলে দাবি করা হচ্ছে। জানা গেছে, গত ৪ মে বিধানসভা নির্বাচনের গণনার দিন বিজেপির উসকানিমূলক বিজয় মিছিল আটকানোর চেষ্টা করার একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে এই গ্রেপ্তারির নাটক সাজানো হয়েছে। ওই একই ঘটনায় বিধাননগর পুরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সমরেশ চক্রবর্তী এবং হেমন্ত চৌধুরীকেও আগেই গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের দাবি, গণতান্ত্রিক নির্বাচনে পরাজয়ের পর ক্ষমতা প্রদর্শনের অহংকারে মত্ত হয়ে বিজেপি এখন বিরোধী শিবিরের কোমর ভেঙে দিতে চাইছে। বাংলায় গণতান্ত্রিক পরিবেশকে কলুষিত করতে এবং বিরোধী কণ্ঠস্বরকে ভয় দেখাতে যেভাবে একের পর এক নেতা-কর্মীকে আইনি জালে জড়ানো হচ্ছে, অদিতি ও দেবরাজের এই আগাম জামিনের আবেদন সেই স্বৈরাচারী মানসিকতার বিরুদ্ধেই এক তীব্র প্রতিরোধ।


