বিজেপি শাসিত রাজ্যের পর এবার পশ্চিমবঙ্গেও মুসলিমদের উপর বিদ্বেষ মূলক ঘটনা সামনে উঠে আসছে। সাম্প্রতিক এক সরকারি অনুষ্ঠানে বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নিতিশ কুমারকে দেখা যায় এক ডাক্তারি পড়ুয়ার মুখ থেকে বোরখা টেনে খোলার ভিডিও গোটা দেশ জুড়ে সমালোচনার ঝড় তুলেছিল। এবার এর রেস কাটতে না কাটতেই বুধবার কলকাতার যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি নিন্দনীয় ঘটনা ঘটে গেলো। বিশ্ববিদ্যালয়ে কনভোকেশন অনুষ্ঠান চলছিল। অনুষ্ঠান চলাকালীন কয়েকজন ছাত্রী মঞ্চে দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ জানান। তাঁদের পোস্টারে লেখা ছিল, “মাই বডি মাই চয়েস” এবং “হিজাব ইজ মাই রাইট”।
ঘটনার সূত্রপাত হয় ইংরেজি বিভাগের পরীক্ষাকক্ষে। অভিযোগ, পরীক্ষার সময় হিজাব পরা দুই ছাত্রীকে আলাদাভাবে তল্লাশি করা হয়। জানা গেছে, এক ছাত্র ভুল করে হেডফোন নিয়ে পরীক্ষাকক্ষে ঢুকে পড়েছিলেন। শিক্ষিকার নজরে পড়লে হেডফোনটি জমা দেন। এরপর বিভাগের প্রধান শাশ্বতী হালদার পুরো ক্লাসের মধ্যে থেকে শুধু একজন হিজাব পরা ছাত্রীকে তল্লাশির জন্য নির্বাচন করেন। অভিযোগ, ওই ছাত্রী বারবার জানান যে তাঁর কাছে কোনও হেডফোন নেই। তবুও তাঁকে ভরা ক্লাসে হিজাব খুলতে বলা হয়। বিষয়টি নিয়ে ছাত্রীটি খুব অস্বস্তিতে পড়ে যান। পরে সহপাঠীদের অনুরোধে তাঁকে অন্য একটি কক্ষে নিয়ে তল্লাশি করা হয়। তল্লাশির পর ছাত্রীটির থেকে কিছুই পাওয়া যায়নি। অন্য একটি পরীক্ষাকক্ষে থাকা আরেক হিজাব পরা ছাত্রীকে ওয়াশরুমে নিয়ে গিয়ে তল্লাশি করা হয় বলে অভিযোগ। সেখানে তাঁকে নানা অস্বস্তিকর প্রশ্ন করা হয়। তল্লাশির জন্য পরীক্ষার সময়ও নষ্ট হয়, কিন্তু অতিরিক্ত সময় দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ।
এই ঘটনায় যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের বহু ছাত্রছাত্রী ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাঁদের দাবি, অন্য অনেক পরীক্ষার্থী ভারী পোশাক পরলেও শুধু হিজাব পরা ছাত্রীদেরই আলাদা করে তল্লাশি করা হয়েছে। ছাত্রছাত্রীরা বিষয়টি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কাছে লিখিত অভিযোগও জমা দিয়েছেন। এই ঘটনা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সমান অধিকার ও সম্মান নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু করেছে।


