শনিবার থেকে কাটোয়ার মহকুমাশাসকের দপ্তরে শুরু হয়েছে এসআইআর সংক্রান্ত শুনানি। সেই শুনানিতেই উঠে এল একাধিক প্রাক্তন সেনাকর্মীর ক্ষোভ, হতাশা এবং অপমানের কথা। দীর্ঘদিন দেশের সেবায় যুক্ত থেকেও জীবনের শেষ প্রান্তে এসে নাগরিকত্ব প্রমাণের জন্য লাইনে দাঁড়াতে হওয়ায় অনেকেই ভেঙে পড়েছেন।
কাটোয়া শহরের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা প্রাক্তন সেনাকর্মী বিমলাচরণ পাঠক হুইলচেয়ারে করে শুনানিতে হাজির হন। বয়স আশির কোঠায়। তিনি জানান, ১৯৬৩ সালে সেনাবাহিনীতে যোগ দিয়েছিলেন এবং ১৯৮৫ সালে অবসর নেন। কর্মজীবনে দেশের বিভিন্ন সীমান্তে দায়িত্ব পালন করেছেন। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময়ও তিনি সীমান্তে কর্মরত ছিলেন। কিন্তু এত কিছুর পরেও এখন তাকে ভারতীয় নাগরিকত্বের প্রমাণ দিতে বলা হচ্ছে। শুনানিতে ২০০২ সালের ভোটার তালিকা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ঠিক মনে নেই তিনি সে বছর ভোট দিয়েছিলেন কি না, তবে সেনাবাহিনীতে থাকাকালীন বহুবার ডাকযোগে ভোট দিয়েছেন। তার পুরোনো নথিপত্র দেখে মহকুমাশাসক সন্তোষ প্রকাশ করেন।
অন্যদিকে দাঁইহাটের এক আধাসামরিক বাহিনীর জওয়ানকে সশরীরে হাজির থাকতে বলা হয়। তিনি বর্তমানে দেরাদুনে কর্মরত থাকায় আসতে পারেননি। তার বাবা, প্রাক্তন সেনাকর্মী পূর্ণচন্দ্র সরকার শুনানিতে আসেন। তিনি জানান, ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় নামের বানান ভুল থাকায় সমস্যা তৈরি হয়েছে। ছেলের পরিচয় প্রমাণ করতে কাগজপত্র ও ভিডিও কল দেখানো হলেও তা গ্রহণ করা হয়নি।
কাটোয়া-১ ব্লকের একটি বুথের ছ’জন বাসিন্দাকেও শুনানিতে ডাকা হয়। তাদের নাম ২০০২ ও ২০২৫, দুই তালিকাতে থাকলেও বাড়ির দলিল চাইতে বলা হয়। পরে অবশ্য তাদের ছাড় দেওয়া হয় বলে জানা গিয়েছে। এই পরিস্থিতি নিয়ে কাটোয়ার তৃণমূল বিধায়ক রবীন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায় বলেন, দেশের জন্য জীবন উৎসর্গ করা প্রাক্তন সেনাদের এভাবে হয়রানি করা চরম অন্যায়। তিনি অবিলম্বে এই ধরনের আচরণ বন্ধের দাবি জানান।


