ফিলিস্তিনি বন্দী বিষয়ক কমিশন, ফিলিস্তিনি প্রিজনারস সোসাইটি এবং অ্যাডামীর মানবাধিকার সংগঠন এক যৌথ প্রতিবেদনে জানিয়েছে, বর্তমানে প্রায় ৯,৩০০ ফিলিস্তিনি বন্দি রয়েছে ইসরায়েলের কারাগারে। এদের মধ্যে রয়েছে মহিলা, শিশু, সাংবাদিক ও আইনপ্রণেতারা। প্রায় ৪৯ শতাংশ বন্দিকে অভিযোগ ছাড়াই অথবা বিচার ছাড়াই আটক রাখা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পশ্চিম তট এবং জেরুজালেমে প্রায় ২১,০০০ আটক সংঘটিত হয়েছে। এদের মধ্যে রয়েছে ১,৬৫৫ শিশু ও ৬৫০ মহিলা। তবে গাজা উপত্যকা এবং ১৯৪৮-অধিকারভূক্ত অঞ্চলে আটকাদের সংখ্যা অন্তর্ভুক্ত নয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অবৈধ বসতি সম্প্রসারণকে অজুহাত দেখিয়ে বিভিন্ন ফিলিস্তিনি শহর ও গ্রামে ব্যাপক গ্রেফতার অভিযান চালানো হয়েছে। হেব্রন এলাকার মাসাফার ইয়াটা এবং রামাল্লার আল-মঘায়ির গ্রাম এই অভিযানের লক্ষ্যবস্তু। মহিলা বন্দীদের সংখ্যা বর্তমানে ৪৯। এর মধ্যে দুইজনকে ২০২৩ সালের অক্টোবর ৭-এর আগে আটক করা হয়েছে। ১৮ বছরের কম বয়সী শিশুদের সংখ্যা প্রায় ৩৫০, যারা মেগিড্ডো ও ওফের কারাগারে রাখা হয়েছে।
প্রতিবেদন বলছে, ৩,৩৫০ ফিলিস্তিনি প্রশাসনিক হেফাজতে আটক আছেন, অর্থাৎ অভিযোগ ছাড়াই বা বিচার ছাড়াই তারা কারাগারে রয়েছে। এই তালিকায় রয়েছে শিক্ষার্থী, সাংবাদিক, ডাক্তার, আইনজীবী, রাজনীতিবিদ, মানবাধিকারকর্মী এবং নিহত ও আটক পরিবারের সদস্যরা। ২০২৫ সালে ৩২ জন ফিলিস্তিনি বন্দি হত্যার শিকার হয়েছে। প্রতিবেদন উল্লেখ করে, এই বন্দীরা অত্যাচার, ক্ষুধা, চিকিৎসা অস্বীকার, রোগ-জীবাণু ছড়ানো এবং যৌন সহিংসতার মতো ন্যক্কারজনক পরিস্থিতির সম্মুখীন। এছাড়া ৪২ জন সাংবাদিক এবং ৯ জন ফিলিস্তিনি আইনপ্রণেতাও বন্দি রয়েছেন বলে জানা গিয়েছে।


