পুরোপুরি রাজনৈতিক সন্ন্যাস নয়। তবে বিজেপির হয়ে আর ভোটে দাঁড়াবেন না কার্শিয়াং-এর বিধায়ক বিষ্ণুপ্রসাদ শর্মা। বিধানসভার অন্তর্বর্তীকালীন বাজেট অধিবেশনের শেষদিনে প্রকাশ্যে ঘোষণা করে দিলেন তিনি। সদ্য শেষ হওয়া অধিবেশনে বিজেপি বিধায়ক অগ্নিমিত্রা পলের সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে নিন্দনীয় মন্তব্যের বিরুদ্ধে প্রতিবাদকে তুঙ্গে নিয়ে যান কার্শিয়াং -এর বিজেপি বিধায়ক বিষ্ণুপ্রসাদ শর্মা। বিজেপির ধর্মীয় মেরুকরণের রাজনীতির বিরুদ্ধে ক্ষোভউগরে দেন। বলেন, ‘আজ থেকে আমি মুক্ত। পায়ের থেকে বেড়ি খুলে দিলাম।’ উল্লেখ্য, সদ্যসমাপ্ত বিধানসভার অন্তর্বর্তী বাজেট অধিবেশনে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছিল অগ্নিমিত্রা পলের সংখ্যালঘুদের নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করায়। আসানসোলের বিধায়ক অগ্নিমিত্রা বলেছিলেন, সংখ্যালঘুদের বাজেট বরাদ্দ করা অর্থহীন। মাদ্রাসায় পড়াশুনোর বদলে জঙ্গি তৈরি করা হয়। বিধানসভার বাইরে এসে বিষ্ণুপ্রসাদ বলেন, কোনও জাত নিয়ে রাজনীতি করা, কোনও সম্প্রদায়কে আক্রমণ করাকে আমি মানবিক নীতির বিরুদ্ধ বলে মনে করি। বিধানসভার মধ্যে বিজেপি বিধায়কের উসকানিমূলক মন্তব্যের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানান বিষ্ণুপ্রসাদ। বলেন, দেশের ধর্মনিরপেক্ষতায় আঘাত লাগে, দাঙ্গার
মতো পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়, এই ধরনের মন্তব্যে। বিজেপির এই ধর্ম নিয়ে রাজনীতির পুরোপুরি বিরোধী তিনি। এ ছাড়াও বিজেপির মিথ্যাচারের মানসিকতার বিরুদ্ধেও ক্ষোভ উগরে দিয়েছিলেন কার্শিয়াং এর বিধায়ক বিষ্ণুপ্রসাদ। গোর্খাদের ভাষাগত সমস্যার সমাধানের জন্য কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের কাছে বারবার দরবার করেছেন তিনি। ২০০৯ সাল থেকে গোর্খাল্যান্ডের দাবিতে বিজেপিকে সমর্থনও করে আসছেন। লোকসভা ভোটের আগে কেন্দ্রীয় সরকার গোর্খাল্যান্ড নিয়ে ইস্তেহার পর্যন্ত প্রকাশ করলেও সেই দাবি নিয়ে একচুলও এগোয়নি কেন্দ্র। এমনকী বঙ্গ বিজেপির নেতারাও এই বিষয় নিয়ে কোনও আগ্রহ দেখায়নি। এই ইস্যুতে দীর্ঘদিন ধরে দলগতভাবে বিষ্ণুপ্রসাদের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি হয়ে গিয়েছিল বাংলার অন্য বিজেপি বিধায়কদের। তাঁর কথায় আমি এখন বিজেপির কাছে একটা জ্বলন্ত জিজ্ঞাসা। এখন থেকে গোর্খাল্যান্ডের জন্য পাহাড়বাসীদের জন্য নতুনভাবে আন্দোলন করার প্রস্তুতি নেবেন বলে জানিয়ে দেন বিষ্ণুপ্রসাদ।


