পূর্ব বর্ধমানের খণ্ডঘোষ এলাকায় এক উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার্থীকে মারধর ও পুকুরে ফেলে দেওয়ার ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। পরীক্ষার ঠিক আগের দিন এই ঘটনায় আতঙ্কে রয়েছে ছাত্র ও তার পরিবার। পারিবারিক সম্পত্তি নিয়ে বিবাদের জেরে এই হামলা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় রাজনৈতিক উত্তেজনাও তৈরি হয়েছে।
আক্রান্ত ছাত্র আস্তিক অধিকারী জানায়, গতকাল কয়েকজন ব্যক্তি হঠাৎ তাদের দোকানের সামনে আসে। তারা তার বাবাকে দোকান বন্ধ করতে বলে এবং বাইরে ডেকে নিয়ে যায়। বিষয়টি জানতে বাইরে গেলে তাকে ঘিরে ধরা হয়। অভিযোগ, এরপর জোর করে তার হাত ধরে টেনে নিয়ে গিয়ে পাশের পুকুরে ফেলে দেওয়া হয়। সে জানায়, কিছু সময়ের জন্য সে দিশেহারা হয়ে পড়ে এবং নিজের প্রাণনাশের আশঙ্কা করছিল। হামলাকারীরা তাকে হুমকিও দিয়ে যায় বলে দাবি তার।
পরিবারের আরও অভিযোগ, শুধু মারধরই নয়, তাদের দোকানেও ভাঙচুর চালানো হয়েছে। ঘটনার পর খণ্ডঘোষ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন তারা। পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে।
এই ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক চাপানউতোরও শুরু হয়েছে। ভারতীয় জনতা পার্টি–র স্থানীয় নেতাদের দাবি, আস্তিকের বাবা তাদের একটি কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ায় শাসকদলের লোকজন ক্ষুব্ধ হয়ে হামলা চালিয়েছে। তারা দোষ চাপিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস–এর অঞ্চল সভাপতির অনুগামীদের উপর।
তবে তৃণমূল নেতৃত্ব সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তাদের দাবি, পারিবারিক বিবাদের খবর পেয়ে তারা সেখানে গিয়েছিল এবং এক মহিলাকে হেনস্থার হাত থেকে বাঁচিয়েছে। রাজনীতির সঙ্গে এই ঘটনার কোনও সম্পর্ক নেই বলেও তারা জানায়। এই ঘটনার জেরে পরীক্ষার্থীর পরিবার আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে। পরীক্ষার প্রস্তুতির বদলে এখন তাদের চিন্তা নিরাপত্তা নিয়ে।


