পবিত্র রমজান মাসের প্রথম জুম্মা। দুপুর গড়াতেই শহরের নানা প্রান্তের মসজিদগুলিতে ভিড় বাড়তে শুরু করে। কোথাও সিঁড়ি, কোথাও চত্বর, আবার কোথাও রাস্তার একাংশ জুড়ে দাঁড়িয়ে নামাজে শামিল হতে দেখা গেল বহু মানুষকে। ভক্তদের ঢল সামলাতে বেশ কিছু জায়গায় পুলিশকেও তৎপর থাকতে হয়।
কলকাতার ঐতিহ্যবাহী নাখোদা মসজিদে সকাল থেকেই বাড়তি প্রস্তুতি ছিল। মসজিদের ভিতরে জায়গা পূর্ণ হয়ে গেলে অনেকেই বাইরে চত্বরে সার বেঁধে দাঁড়ান। পার্ক সার্কাস, গার্ডেনরিচ, খিদিরপুর, মেটিয়াবুরুজ-সহ শহরের বিভিন্ন এলাকাতেও একই ছবি ধরা পড়ে। বহু মানুষ পরিবারের সদস্যদের নিয়ে এসেছিলেন, অনেকে আবার অফিসের ফাঁকে এসে নামাজ আদায় করেন।
এক প্রবীণ মুসল্লির কথায়, “রমজানের প্রথম জুমা আলাদা অনুভূতি দেয়। রোজার সঙ্গে এই নামাজ যেন আত্মার শক্তি বাড়ায়।” তরুণদের মধ্যেও উচ্ছ্বাস ছিল চোখে পড়ার মতো। কলেজ পড়ুয়া এক যুবক জানালেন, “বন্ধুরা মিলে একসঙ্গে নামাজ পড়তে এসেছি। এই সময়টা আমাদের কাছে বিশেষ।”
ভিড়ের কথা মাথায় রেখে প্রশাসনের তরফে নিরাপত্তা ও যান নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। বেশ কিছু রাস্তায় সাময়িকভাবে গাড়ি চলাচলে নিয়ন্ত্রণ আনা হয়। পুলিশের এক কর্তার কথায়, “সব কিছু শান্তিপূর্ণভাবেই হয়েছে। মানুষও সহযোগিতা করেছেন।”
মসজিদগুলিতে পানীয় জল ও প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছিল। স্বেচ্ছাসেবকেরা ভিড় সামলাতে সাহায্য করেন। অনেক জায়গায় নামাজ শেষে একে অপরকে রমজানের শুভেচ্ছা জানাতে দেখা যায়।
শহরের আকাশে তখন রোদ আর হালকা গরম। তবু ধর্মীয় আবেগে কোনও ভাটা পড়েনি। প্রথম জুমার এই সমাগম যেন জানিয়ে দিল—রমজান মানে শুধু রোজা নয়, মিলন আর মনের শুদ্ধতারও সময়।


