অসমের দক্ষিণ সালমারা–মানকাচর জেলায় এক চাঞ্চল্যকর ঘটনার পর দুই মুসলিম যুবকের জীবন এখন সংকটের মুখে। অভিযোগ, সীমান্তরক্ষী বাহিনীর গুলিতে গুরুতর জখম হয়েছেন দুই ভাই। বর্তমানে তাঁরা গুয়াহাটির একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন, অবস্থাও আশঙ্কাজনক বলে জানা গিয়েছে।
ঘটনাটি ঘটেছে মার্চের ৮ ও ৯ তারিখের মাঝরাতে, প্রায় আড়াইটে নাগাদ। পরিবারের দাবি, রশিদুল ইসলাম ও তাঁর ছোট ভাই রেজাবুল শেখ সেদিন রাতেই বাড়ির কাছের একটি নদীতে মাছ ধরতে গিয়েছিলেন। সামনে রমজান মাস থাকায় পরিবারের জন্য খাবারের ব্যবস্থা করতেই তাঁরা নদীতে যান।
পরিবারের অভিযোগ অনুযায়ী, ঘটনাস্থলটি আন্তর্জাতিক সীমান্ত থেকে প্রায় দেড় কিলোমিটার ভেতরে, অর্থাৎ ভারতীয় ভূখণ্ডের মধ্যেই ছিল। সেই সময় হঠাৎই সীমান্তরক্ষী বাহিনীর কিছু জওয়ান সেখানে পৌঁছে গুলি চালায়। পরিবারের দাবি, কোনও রকম সতর্কবার্তা ছাড়াই এই গুলি চালানো হয়।
এই গুলিতে দুই ভাই গুরুতর জখম হন। রশিদুল ইসলামের পেটে গুলি লাগে, আর রেজাবুল শেখের মাথায় গুলির আঘাত লাগে বলে জানা গিয়েছে। স্থানীয় মানুষজন গুলির শব্দ শুনে ঘটনাস্থলে ছুটে যান এবং পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে মিলে তাঁদের দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যান। অভিযোগ, গুলির ঘটনার পর বাহিনীর সদস্যরা সেখান থেকে চলে যান এবং আহতদের সাহায্য করার কোনও উদ্যোগ নেননি।
এই ঘটনার পর মানবাধিকার সংগঠন মাসুম একটি অভিযোগ দায়ের করেছে। সংগঠনের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, নিরীহ সাধারণ মানুষের ওপর এই ধরনের গুলি চালানো অত্যন্ত উদ্বেগজনক এবং এটি মানবাধিকারের লঙ্ঘন।
অন্যদিকে, আহতদের পরিবারের এক সদস্য প্রথমে স্থানীয় থানায় অভিযোগ জানাতে গেলে তাঁকে অন্য থানায় যেতে বলা হয়। পরে অভিযোগ জমা নেওয়া হলেও কোনও রসিদ বা নথিভুক্ত নম্বর দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। এখনও পর্যন্ত এই ঘটনার ভিত্তিতে কোনও এফআইআর দায়ের হয়নি।
পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে মানবাধিকার সংগঠনটি জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের দ্বারস্থ হয়েছে। তাদের দাবি, এই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করা হোক এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হোক। পাশাপাশি আহতদের উন্নত চিকিৎসা ও পরিবারের জন্য ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থাও করার আবেদন জানানো হয়েছে। এই ঘটনার পর এলাকাজুড়ে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা ও প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে বলে মনে করছেন অনেকেই।


