মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা কমাতে নতুন করে কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু হয়েছে। ইরান, ইসরায়েল এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দীর্ঘদিনের সংঘাত থামাতে বিভিন্ন শর্ত নিয়ে আলোচনা চলছে। ইরানের সংবাদমাধ্যমগুলোর খবরে বলা হয়েছে, যুদ্ধ থামাতে ইরান পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি সামনে এনেছে।
ফেব্রুয়ারির শেষ দিক থেকে শুরু হওয়া এই সংঘর্ষ ইতোমধ্যেই বহু প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতির কারণ হয়েছে। ইসরায়েলের একটি টেলিভিশন চ্যানেলের প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উদ্যোগে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা চলছে। এই প্রক্রিয়ায় ইরান তাদের পক্ষ থেকে কিছু কড়া শর্ত দিয়েছে।
ইরানের প্রথম দাবি, ভবিষ্যতে যেন আর কোনোভাবে যুদ্ধ পুনরায় শুরু না হয়, তার নিশ্চয়তা দিতে হবে।
আরও একটি বড় দাবি হলো, মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো বন্ধ করতে হবে। যুদ্ধের ফলে ইরানের যে ক্ষতি হয়েছে, তার জন্য আর্থিক সহায়তাও দাবি করেছে তারা। পাশাপাশি, ইরানবিরোধী প্রচার চালায় এমন গণমাধ্যমের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রও ইরানের কাছে একগুচ্ছ শর্ত দিয়েছে বলে জানা গেছে। আন্তর্জাতিক সূত্র অনুযায়ী, প্রায় ১৫টি প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা চলছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো ইরানের পরমাণু কর্মসূচির ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা। এই প্রস্তাবগুলোর মধ্যে রয়েছে—
ইরানকে তাদের পরমাণু সক্ষমতা সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করতে হবে এবং ভবিষ্যতে কখনও পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না বলে প্রতিশ্রুতি দিতে হবে।
ইউরেনিয়াম ব্যবহার বন্ধ করা এবং মজুত ইউরেনিয়াম আন্তর্জাতিক সংস্থার কাছে হস্তান্তরের কথাও বলা হয়েছে।
এছাড়া আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থাকে পুরো তদারকির সুযোগ দিতে হবে। ইরানের সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর কার্যক্রম বন্ধ করা এবং ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারে সীমাবদ্ধতা আনার বিষয়টিও শর্তের মধ্যে রয়েছে।
সব মিলিয়ে, দুই পক্ষের কঠোর অবস্থানের মধ্যেও আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এখন দেখার বিষয়, এই শর্তগুলো মেনে নিয়ে একটি স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব হয় কি না।


