ভারতের জ্বালানি সংকটের মধ্যে নতুন করে চাঞ্চল্য তৈরি করেছে একটি বড় চুক্তি। দেশের অন্যতম শীর্ষ শিল্পগোষ্ঠী রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রি ইরান থেকে প্রায় ৫০ লক্ষ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল কিনেছে বলে একাধিক সূত্রে জানা গিয়েছে। সাম্প্রতিক আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির মধ্যে এই পদক্ষেপকে গুরুত্বপূর্ণ বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
জানা গিয়েছে, এই তেল কেনা হয়েছে ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা ন্যাশনাল ইরানিয়ান অয়েল কোম্পানি-এর কাছ থেকে। আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের তুলনায় কিছুটা বেশি দামে এই তেল কেনা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। যদিও ঠিক কবে এই তেল ভারতে পৌঁছাবে, সে বিষয়ে এখনও স্পষ্ট কিছু জানানো হয়নি।
গত কয়েক বছরে ইরানের তেল মূলত চীনের কিছু স্বাধীন রিফাইনারি সংস্থার হাতেই বেশি গিয়েছে। অনেক ক্ষেত্রেই সেই তেলের উৎস গোপন রেখে অন্য দেশের নামে বাজারে আনা হত বলেও শোনা যায়। ফলে এই নতুন চুক্তি আন্তর্জাতিক তেল বাণিজ্যে নতুন সমীকরণ তৈরি করতে পারে।
এই বিষয়ে এখনও পর্যন্ত রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রি কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া দেয়নি। একই ভাবে ইরানের সংস্থার তরফেও কোনও মন্তব্য সামনে আসেনি।
এই তেল কেনার পেছনে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাময়িক নীতি পরিবর্তন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে। ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর প্রশাসন সম্প্রতি সীমিত সময়ের জন্য কিছু নিষেধাজ্ঞা শিথিল করেছে। জানানো হয়েছে, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে জাহাজে তোলা তেল সরবরাহ করা হলে সেই ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, ২০১৯ সালে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা জারি হওয়ার পর ভারত ইরান থেকে তেল আমদানি বন্ধ করে দেয়। সেই দিক থেকে দেখলে, দীর্ঘ বিরতির পর এই প্রথম আবার ইরানের তেল কিনল ভারত।
এর আগেও চলতি মাসে ভারত রাশিয়া থেকে বিপুল পরিমাণ তেল কিনেছে, যা সরবরাহের ঘাটতি মেটানোর একটি চেষ্টা বলে মনে করা হচ্ছে। অন্যদিকে, এশিয়ার আরও কিছু দেশ ইরানের তেল কেনার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছে। তবে চীনের বড় সংস্থা সিনোপেক ইতিমধ্যেই জানিয়েছে, তারা আপাতত এই পথে হাঁটছে না।


