সম্প্রীতি ইরানে চলতে থাকা সংঘাতে সাধারণ মানুষের জীবন ও পরিকাঠামোর ওপর ভয়াবহ প্রভাব পড়ছে। দেশটির রেড ক্রিসেন্ট সংস্থার প্রধান পিরহোসেন কলিভান্দ জানিয়েছেন, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল-এর যৌথ সামরিক অভিযানে এখন পর্যন্ত ৮৫ হাজারেরও বেশি অসামরিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
বুধবার এক সাংবাদিক বৈঠকে তিনি জানান, মোট ৮৫,১৭৬টি জায়গা আঘাতের শিকার হয়েছে। এর মধ্যে ৬৪,৫৮৩টি বসতবাড়ি এবং ১৯,৬৯০টি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান রয়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে তেহরান প্রদেশ-এ। এই পরিসংখ্যান থেকেই বোঝা যাচ্ছে, যুদ্ধের ধাক্কা সরাসরি সাধারণ মানুষের জীবনে কতটা গভীরভাবে পড়েছে।
শুধু ঘরবাড়ি বা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানই নয়, হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে গুরুত্বপূর্ণ পরিষেবাও। কলিভান্দ জানিয়েছেন, অন্তত ২৮২টি চিকিৎসাকেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাশাপাশি প্রায় ৬০০টি স্কুলেও আঘাত হানা হয়েছে ফলে চিকিৎসা পরিষেবা ও শিক্ষাব্যবস্থা বড়সড় চাপে পড়েছে।
ইরানের এই শীর্ষ আধিকারিক অভিযোগ করেছেন, এই ধরনের হামলা আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করছে। তাঁর দাবি, জেনেভা কনভেনশন অনুযায়ী সাধারণ মানুষের বসবাসের জায়গা, হাসপাতাল বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আঘাত করা ‘যুদ্ধাপরাধ’-এর মধ্যে পড়ে। তাই এই হামলাগুলিকে তিনি সরাসরি যুদ্ধাপরাধ বলেই অভিহিত করেছেন।
এই সংঘাত শুরু হয়েছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিমান হামলার মাধ্যমে। এরপর থেকেই পরিস্থিতি ক্রমশ জটিল হয়ে উঠেছে। এখনও পর্যন্ত ইরানে ১,৩৪০ জনেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন দেশের প্রাক্তন সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনেই।
এর জবাবে ইরানও পাল্টা আক্রমণ চালিয়েছে। ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে তারা ইসরায়েল ছাড়াও জর্ডান, ইরাক এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন ঘাঁটিগুলিকে লক্ষ্য করেছে। এই পাল্টা হামলায়ও প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বিমান চলাচল ও বিশ্ববাজারেও এর প্রভাব পড়েছে।
পরিস্থিতি যত এগোচ্ছে, ততই বাড়ছে মানবিক উদ্বেগ। রেড ক্রিসেন্টের কর্মীরা জানিয়েছেন, সাধারণ মানুষের জীবন ও জরুরি পরিকাঠামো রক্ষা করা এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। যুদ্ধ থামার কোনও লক্ষণ এখনও দেখা যাচ্ছে না, ফলে আশঙ্কা আরও বাড়ছে।


