ঝাড়গ্রাম জেলার গোপীবল্লভপুর ও কেশপুর এলাকায় ভয়াবহ কালবৈশাখী ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে চাষের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। সুবর্ণরেখা নদীর ধারের বিস্তীর্ণ তরমুজ ক্ষেত প্রায় সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেছে। টানা দু’দিন ধরে কৃষকেরা জমির জল বের করার চেষ্টা করলেও কোনও লাভ হয়নি। গাছের গোড়া নষ্ট হয়ে তরমুজ গাছ শুকিয়ে পড়েছে। অনেক জায়গায় কাঁচা ও আধপাকা ফল শিলার আঘাতে ফেটে গিয়ে পচে গেছে, ফলে মাঠজুড়ে দুর্গন্ধ ছড়িয়েছে।
এই অঞ্চলের বহু কৃষক তরমুজ চাষের উপর নির্ভর করে জীবিকা নির্বাহ করেন। সাধারণত এই সময় প্রতিদিন বহু লরিতে তরমুজ বিভিন্ন জায়গায় পাঠানো হতো। কিন্তু এবারের প্রাকৃতিক দুর্যোগে সেই সব আশা ভেঙে গেছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে আলমপুর পিড়াশিমূল গ্রামের চাষিদের।
চাষিরা জানিয়েছেন, তরমুজ চাষ করতে প্রচুর খরচ হয়। বীজ কেনা থেকে শুরু করে প্রতিদিন সেচ দেওয়ার জন্য শ্রমিক লাগানো সব মিলিয়ে বিঘাপ্রতি খরচ অনেক বেশি। অনেকেই ঋণ নিয়ে চাষ করেন, যাতে বছরের সংসার চালানো যায়। কিন্তু হঠাৎ এই বিপর্যয়ে তাঁদের সমস্ত বিনিয়োগ ডুবে গেছে।
একজন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক জানান, কয়েক বিঘা জমিতে চাষ করতে লক্ষাধিক টাকা খরচ হয়েছে, যার বেশিরভাগই ধার করা। এখন ফসল না পাওয়ায় সেই ঋণ শোধ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। অনেক কৃষকই একই সমস্যায় পড়েছেন। তাঁদের দাবি, সরকার যেন দ্রুত ক্ষতিপূরণ দেয় এবং ঋণ মকুব করে।
অন্যদিকে কেশপুর, গড়বেতা ও আশপাশের এলাকাতেও আলু চাষিরা বিপদে। মাঠে বিপুল পরিমাণ আলু পড়ে থাকলেও ক্রেতা নেই। দাম এত কম যে, খরচ তুলতেই পারছেন না চাষিরা। ফলে অনেকেই আলু তোলাই বন্ধ করে দিয়েছেন। পুরো পরিস্থিতিতে কৃষকদের মধ্যে গভীর হতাশা দেখা দিয়েছে।


