বিজেপি শাসিত রাজ্য মহারাষ্ট্রের নাসিক জেলায় এক স্বঘোষিত জ্যোতিষী অশোক খাড়াত-কে ঘিরে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ, তিনি ধর্ম ও তন্ত্রের আড়ালে বহু মহিলাকে প্রতারণা করে শারীরিক নির্যাতন করেছেন। এই ঘটনা সামনে আসার পর একের পর এক মহিলা নিজেদের অভিজ্ঞতার কথা প্রকাশ্যে আনছেন।
সম্প্রতি ইন্ডিয়া টুডে-এর একটি প্রতিবেদনে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের এমন বহু ঘটনার উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে দেখা যাচ্ছে, শুধুমাত্র অশিক্ষিত বা গ্রামের মানুষই নন, উচ্চশিক্ষিত এবং সমাজে প্রতিষ্ঠিত অনেক মহিলাও এই ধরনের প্রতারণার শিকার হয়েছেন। মূল কারণ হিসেবে উঠে এসেছে অন্ধ বিশ্বাস ও কুসংস্কার।
প্রতিবেদনে এক তরুণীর অভিজ্ঞতার কথা বলা হয়েছে, যার নাম পরিবর্তন করে ‘x’ দেওয়া হলো। ‘x’ জানান, প্রায় কুড়ি বছর বয়সে একটি জটিল অসুখে ভুগছিলেন। চিকিৎসায় তেমন ফল না পাওয়ায় তাঁর পরিবার এক ধর্মগুরুর শরণাপন্ন হয়। শুরুতে সব কিছু স্বাভাবিক থাকলেও পরে পরিস্থিতি বদলে যায়। ওই ব্যক্তি তাঁকে অন্য জায়গায় নিয়ে গিয়ে চিকিৎসার নাম করে অদ্ভুত আচরণ করতে শুরু করেন। চিকিৎসার নাম করে মন্ত্র উচ্চারণ করতে করতে হঠাৎ তরুণীর গোপনাঙ্গে হাত দিয়ে বসেন। ‘x’ বুঝতে পারেন কিছু ভুল হচ্ছে এবং ভয় পেয়ে কোনওরকমে সেখান থেকে বেরিয়ে আসেন।
আরেকজন তরুণী, যার নাম ধরেনিন ‘Y’। তিনিও একই রকম অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন। ‘Y’ এর বাবাই তাঁকে এক ধর্মীয় গুরুর কাছে নিয়ে যান। সেখানে একান্তে নিয়ে গিয়ে তাঁর সঙ্গে অনুচিত আচরণ করা হয়। ওই সময় ভয়ে তিনি কিছু বলতে পারেননি। পরে আর সেখানে না যাওয়ার জন্য, অসুস্থতা সেরে গেছে বলে জানিয়ে দেন।
এই ধরনের ঘটনা যে বিচ্ছিন্ন নয়, সেটাই সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয়। দেশের বিভিন্ন জায়গায় একই ধরনের অভিযোগ বহুবার সামনে এসেছে। ধর্মের ভয় দেখিয়ে বা অলৌকিক চিকিৎসার নাম করে কিছু মানুষ সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করছেন এবং সুযোগ নিচ্ছেন। নাসিকের এই ঘটনার পর পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। ইতিমধ্যে বহু মহিলা এগিয়ে এসে অভিযোগ দায়ের করেছেন। জানা গেছে, প্রথম অভিযোগের পর কয়েক দিনের মধ্যেই প্রায় ৫০ জন মহিলা পুলিশের দ্বারস্থ হয়েছেন।


