নিউ ইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি আবারও ইরানকে ঘিরে চলা সামরিক সংঘাতের বিরুদ্ধে সরব হলেন। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, আমেরিকা ও ইসরাইলের নেতৃত্বে যে অভিযান চলছে, তা কোনওভাবেই সমর্থনযোগ্য নয়। তাঁর মতে, এই যুদ্ধ শুধু আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রেই নয়, আমেরিকার ভেতরেও বড় ধরনের প্রভাব ফেলছে।
মেয়র বলেন, দেশের সাধারণ মানুষ যখন ক্রমবর্ধমান খরচের চাপে নাজেহাল, তখন এই সংঘাতে বিপুল পরিমাণ অর্থ খরচ করা হচ্ছে। তিনি দাবি করেন, ইতিমধ্যেই কয়েক দশক বিলিয়ন ডলার ব্যয় হয়ে গেছে, যা প্রতিদিন আরও বাড়ছে। এই বিপুল খরচের ফলে দেশের স্বাস্থ্য পরিষেবা ও শিক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতে বরাদ্দ কমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, হরমুজ প্রণালীর পরিস্থিতি খারাপ হওয়ায় জ্বালানির দাম হু হু করে বাড়ছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে নিউ ইয়র্কের মতো ব্যয়বহুল শহরের বাসিন্দাদের উপর। সাধারণ মানুষের নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচ সামলানো কঠিন হয়ে উঠছে বলেও তিনি জানান।
গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিক থেকে শুরু হওয়া এই সংঘাতের পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হওয়ার পর উত্তেজনা চরমে পৌঁছায়। এরপর ইরান ও লেবাননে একাধিক হামলার ঘটনায় বহু সাধারণ মানুষের প্রাণহানি হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে।
মামদানির বক্তব্য, অতীতে যেসব যুদ্ধ শাসনব্যবস্থা বদলের উদ্দেশ্যে চালানো হয়েছিল, সেগুলির মতোই এই সংঘাতও ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়ের দিকে এগোচ্ছে। তিনি মনে করেন, এই ধরনের পদক্ষেপ দীর্ঘমেয়াদে কোনও সমাধান দেয় না, বরং পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে।
যদিও তাঁর এই অবস্থানের জন্য মার্কিন রাজনৈতিক মহলের একাংশ থেকে সমালোচনা উঠেছে, তবুও তিনি নিজের মত থেকে সরতে নারাজ। তাঁর কথায়, শান্তি বজায় রাখা এবং দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষা করাই এখন সবচেয়ে জরুরি। সেই লক্ষ্যেই এই যুদ্ধের বিরোধিতা করা প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি।


