২০২৪ সালের অন্ধ্রপ্রদেশ বিধানসভা নির্বাচন ঘিরে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। ভোটের ফলাফল প্রকাশের প্রায় দু’বছর পর এবার সামনে এসেছে গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ, যা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।
এই নির্বাচনে চন্দ্রবাবু নায়ডু-র নেতৃত্বে টিডিপি এবং বিজেপি জোট বিপুল জয় পায়। ১৭৫টি আসনের মধ্যে তারা ১৬৪টি দখল করে সরকার গঠন করে। কিন্তু এই জয়ের পরিসংখ্যান নিয়েই এখন প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
অর্থনীতিবিদ পরাকল প্রভাকর, যিনি কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন-এর স্বামী, তিনি এই অভিযোগ প্রকাশ্যে আনেন। তাঁর দাবি, ভোটের হিসেব খতিয়ে দেখতে গিয়ে বেশ কিছু অস্বাভাবিক তথ্য সামনে এসেছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, মধ্যরাতের পর অল্প সময়ের মধ্যে বিপুল সংখ্যক ভোট রেকর্ড করা হয়েছে, যা বাস্তবসম্মত বলে মনে হয় না। দিল্লির কনস্টিটিউশন ক্লাবে এক সাংবাদিক বৈঠকে এই বিষয়টি তুলে ধরা হয়। সেখানে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট সমাজকর্মী যোগেন্দ্র যাদব এবং আইনজীবী প্রশান্ত ভূষণ-সহ আরও অনেকে। তাঁরা সবাই নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।
প্রভাকরের দাবি, রাতের দিকে ভোটের গতিতে অস্বাভাবিক বৃদ্ধি দেখা যায়। বিশেষ করে রাত ৮টার পর থেকে ভোটের সংখ্যায় হঠাৎ বড় পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়। তাঁর যুক্তি, একটি ইভিএম মেশিন পরিচালনা করতে নির্দিষ্ট সময় লাগে, সেই হিসাবে এত দ্রুত ভোট দেওয়া সম্ভব নয়। এই কারণে তিনি পুরো প্রক্রিয়াটি নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। এছাড়াও ভোটদানের শতাংশ নিয়েও বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। প্রথমে যে হার জানানো হয়েছিল, পরে তা একাধিকবার সংশোধন করা হয় এবং শেষ পর্যন্ত অনেক বেশি শতাংশ দেখানো হয়। এই পরিবর্তনের কারণ নিয়ে নির্বাচন কমিশনের তরফে স্পষ্ট ব্যাখ্যা এখনও পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ।
বিরোধী পক্ষের অভিযোগ, এই নির্বাচনে তথ্য প্রকাশের ক্ষেত্রেও স্বচ্ছতার অভাব রয়েছে। বিশেষ করে প্রতিটি বুথের ভোটের বিস্তারিত হিসেব দেখানোর জন্য প্রয়োজনীয় নথি এখনও প্রকাশ করা হয়নি বলে দাবি করা হচ্ছে। এদিকে প্রাক্তন নির্বাচন কমিশনার এসওয়াই কুরেশি এই গোটা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তাঁর মতে, সমস্ত তথ্য প্রকাশ করে নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা হলে তবেই এই বিতর্কের অবসান সম্ভব। অন্ধ্রপ্রদেশের নির্বাচন নিয়ে ওঠা এই অভিযোগ নতুন করে দেশের নির্বাচনী ব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।


