নদিয়ার কালীগঞ্জ বিধানসভা এলাকার হাটখোলা অঞ্চলের প্রত্যন্ত গ্রাম কাদিহাটিতে এখন ভিন্ন এক রাজনৈতিক আবহ তৈরি হয়েছে। গ্রাম জুড়ে শোনা যাচ্ছে এক মায়ের নাম—সাবিনা ইয়াসমিন। অনেকেই তাঁকে আবার অন্য নামে চেনেন,‘তামান্নার মা’। নিজের মেয়েকে হারানোর বেদনা বুকে নিয়েই এবার তিনি নেমেছেন ভোটের লড়াইয়ে। স্থানীয় মানুষজন জানান, গ্রামে গ্রামে ঘুরে সাবিনার সমর্থনে প্রচার চলছে। অনেকেই বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে ভোটের আবেদন করছেন তাঁর হয়ে। সাধারণ এক গৃহবধূ থেকে হঠাৎ করেই রাজনৈতিক ময়দানে উঠে আসা এই মহিলার জীবনযুদ্ধ এখন সবার আলোচনার কেন্দ্রে।
গত বছর জুন মাসে কালীগঞ্জ উপনির্বাচনের ফল ঘোষণার দিন তৃণমূলের বিজয় মিছিল থেকে ছোড়া একটি বোমে প্রাণ হারায় তাঁর মেয়ে তামান্না। সেই ঘটনার পর এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়ায়।
মেয়েকে হারানোর পর ভেঙে পড়েছিলেন সাবিনা। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে নিজেকে শক্ত করে তুলেছেন তিনি। এখন তাঁর লক্ষ্য একটাই, আইনের মাধ্যমে দোষীদের শাস্তি নিশ্চিত করা। তিনি বলেন, আবেগের বশে ভুল পথে না গিয়ে ন্যায়বিচারের পথেই লড়াই চালিয়ে যেতে চান।
বামফ্রন্টের তরফে তাঁকে প্রার্থী করা হয়েছে। দলীয় নেতৃত্ব, বিশেষ করে মহম্মদ সেলিম, বিমান বসু, এবং মীনাক্ষী মুখার্জী তাঁর পাশে থাকার কথা জানিয়েছেন। তাঁদের সমর্থনেই নতুন করে সাহস পাচ্ছেন বলে জানান সাবিনা। বর্তমানে প্রচারের কাজে ব্যস্ত তিনি। প্রচণ্ড গরম উপেক্ষা করে প্রতিদিন বিভিন্ন গ্রামে গিয়ে মানুষের সঙ্গে কথা বলছেন। দুপুরে কখনও কোনও কর্মীর বাড়িতে সামান্য বিশ্রাম নিয়ে আবার বেরিয়ে পড়ছেন। মানুষের সঙ্গে এই যোগাযোগই তাঁকে মানসিকভাবে শক্তি দিচ্ছে বলে তাঁর দাবি।
প্রচারের সময় গ্রামের শিশুদের সঙ্গে কথা বললে তিনি নিজের মেয়ের কথা মনে করেন। সেই স্মৃতি তাঁকে আরও দৃঢ় করে তোলে। পাশাপাশি, এলাকায় এখনও কিছু অভিযুক্ত ঘুরে বেড়ানোর অভিযোগ তুলে তিনি পুলিশের দৃষ্টি আকর্ষণ করছেন।
স্থানীয়দের একাংশ মনে করছেন, এই লড়াই শুধুমাত্র একটি নির্বাচনী লড়াই নয়, বরং একজন মায়ের ন্যায়বিচারের দাবি। তবে রাজনৈতিক ভাবে এই কেন্দ্র কোন দিকে যাবে, তা নিয়ে এখনও জল্পনা রয়েছে। কেউ কেউ মনে করছেন, শাসক দলের প্রভাব বজায় থাকতে পারে, আবার অন্যরা মনে করছেন সাবিনার লড়াই মানুষের মন ছুঁয়ে গেছে। কাদিহাটির এই মায়ের সংগ্রাম এখন রাজ্যের রাজনীতিতে এক বিশেষ বার্তা দিচ্ছে, ন্যায়ের দাবিতে ব্যক্তিগত শোককেও শক্তিতে পরিণত করা যায়।


