দেশে বিদেশি অনুদান সংক্রান্ত নতুন সংশোধনী আইন নিয়ে নানা মহলে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে দাতব্য ও ধর্মীয় কাজে যুক্ত বহু সংগঠন এই প্রস্তাব নিয়ে চিন্তিত। সম্প্রতি সংসদে একটি নতুন বিল আনা হয়েছে, যার উদ্দেশ্য বিদেশ থেকে আসা অর্থের উপর আরও কঠোর নজরদারি করা। তবে এই প্রস্তাব ঘিরেই শুরু হয়েছে বিতর্ক।
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, যদি কোনও সংস্থার বিদেশি অনুদান গ্রহণের অনুমতি বাতিল হয়ে যায় বা সময়মতো তা নবীকরণ না করা হয়, তাহলে সেই সংস্থার সম্পত্তি সরকারের নিয়ন্ত্রণে চলে যেতে পারে। এই বিষয়টিই সবচেয়ে বেশি উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেক সংগঠন মনে করছে, এতে তাদের অস্তিত্বই সংকটে পড়তে পারে।
ভারতের বহু স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় সংগঠন বিদেশি সাহায্যের উপর নির্ভর করে কাজ চালায়। অনেক ক্ষেত্রে তারা নিয়মিত নয়, বরং প্রয়োজন অনুযায়ী বাইরে থেকে অনুদান পায়। ফলে অনেক সময় নিবন্ধন নবীকরণের বিষয়টি গুরুত্ব পায় না। নতুন আইনে এই অবহেলাই বড় সমস্যার কারণ হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
শুধু ধর্মীয় সংগঠন নয়, স্বাস্থ্য পরিষেবা, শিক্ষা, ত্রাণ ও সামাজিক উন্নয়নের কাজে যুক্ত বহু প্রতিষ্ঠানও এই বিল নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তাদের মতে, প্রশাসনিক জটিলতা বা সামান্য ভুলের জন্যও বড় শাস্তির মুখে পড়তে হতে পারে। এতে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ক্ষুণ্ণ হতে পারে বলেও অনেকের মত।
কিছু বিশিষ্ট ব্যক্তি এই প্রস্তাবকে অত্যন্ত কঠোর বলে মন্তব্য করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এর প্রভাব বিশেষ করে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সংগঠনগুলির উপর বেশি পড়তে পারে। অন্যদিকে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলিও অভিযোগ তুলেছে যে, এই আইনের মাধ্যমে সরকারের হাতে অতিরিক্ত ক্ষমতা দেওয়া হচ্ছে। এতে ভিন্নমত পোষণকারী সংগঠনগুলিকে চাপে ফেলা হতে পারে।
এছাড়া কিছু ধর্মীয় সংগঠনও মনে করছে, এই নিয়ম ন্যায়বিচারের পরিপন্থী এবং এতে সমাজসেবামূলক কাজ বাধাগ্রস্ত হতে পারে। তাদের দাবি, এই ধরনের আইন কার্যকর হলে দেশের নানা গুরুত্বপূর্ণ পরিষেবা ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
সংসদে বিলটি পেশ করা হলেও বিরোধীদের চাপে তা আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে। রাজনৈতিক পরিস্থিতিও এই সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলেছে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে অনেকের ধারণা, সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে ভবিষ্যতে এই বিল পাশ করানো হতে পারে।
সব মিলিয়ে, প্রস্তাবিত আইনটি নিয়ে অনিশ্চয়তা ও উদ্বেগ ক্রমশ বাড়ছে। সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলির মতে, এই পরিবর্তন কার্যকর হলে দেশের হাজার হাজার প্রতিষ্ঠানের ভবিষ্যৎ ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।


