রাজস্থানে বেআইনি বালি তোলার অভিযোগকে ঘিরে বড় পদক্ষেপ নিল দেশের শীর্ষ আদালত। জাতীয় চম্বল অভয়ারণ্যের একটি অংশ থেকে সংরক্ষণের মর্যাদা তুলে দেওয়ার যে প্রশাসনিক নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল, তা আপাতত স্থগিত রাখার নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিমকোর্ট। আদালত স্পষ্ট জানিয়েছে, যেসব এলাকা বিরল ও সুরক্ষিত প্রাণীর বাসস্থল হিসেবে চিহ্নিত, সেগুলিকে কোনওভাবেই উন্মুক্ত করা যাবে না।
এই মামলার শুনানিতে আদালত রাজ্য সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলে। বিচারপতিরা বলেন, চম্বল অঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরে বেআইনি বালি তোলার ঘটনা ঘটছে, যা পরিবেশের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। শুধু তাই নয়, এই বেআইনি কারবারকে কেন্দ্র করে হিংসার ঘটনাও ঘটেছে বলে আদালতে উল্লেখ করা হয়। এমনকি কিছু ক্ষেত্রে প্রশাসনিক আধিকারিকরাও হামলার শিকার হয়েছেন বলেও জানানো হয়েছে।
জাতীয় চম্বল অভয়ারণ্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবেশগত অঞ্চল। রাজস্থান, মধ্যপ্রদেশ এবং উত্তরপ্রদেশ জুড়ে বিস্তৃত এই এলাকা বহু বিরল জলজ প্রাণীর আশ্রয়স্থল। বিশেষ করে ঘড়িয়াল, গাঙ্গেয় ডলফিন ও বিভিন্ন প্রজাতির কচ্ছপ এখানে পাওয়া যায়, যাদের অনেকেই এখন বিপন্ন তালিকায় রয়েছে। এই কারণেই বহু বছর আগে অঞ্চলটিকে সংরক্ষিত ঘোষণা করা হয়েছিল।
শুনানির সময় বিচারপতিরা উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, এই ধরনের সংরক্ষিত এলাকায় কোনও পরিবর্তন আনার আগে যথাযথ সমীক্ষা ও পরিবেশগত মূল্যায়ন করা জরুরি। কিন্তু সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে তা ঠিকভাবে করা হয়নি বলেই তাঁদের মত। আদালত রাজ্য সরকারের আইনজীবীর কাছে জানতে চায়, আদৌ কি জায়গাটি সরেজমিনে খতিয়ে দেখা হয়েছিল, এবং সেখানে পরিবেশের ক্ষতির সম্ভাবনা কতটা তা বিবেচনা করা হয়েছিল কি না।
বিচারপতিরা আরও বলেন, চম্বল অঞ্চলের মাটি অত্যন্ত সংবেদনশীল। সেখানে নির্বিচারে বালি তোলা হলে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ও আশপাশের বাস্তুতন্ত্র মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এর ফলে বিরল প্রাণীদের অস্তিত্বও হুমকির মুখে পড়তে পারে।
এদিকে মামলার সঙ্গে যুক্ত এক আইনজীবী আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করে জানান, একই বিষয় নিয়ে আগে থেকেই ন্যাশনাল গ্রিন ট্রাইব্যুনালে একটি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। সব দিক বিবেচনা করে আপাতত স্থিতাবস্থা বজায় রাখার নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিমকোর্ট।


