মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বেড়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যদি হরমুজ প্রণালী খুলে না দেওয়া হয়, তাহলে ইরানের গুরুত্বপূর্ণ বেসামরিক অবকাঠামোতে হামলা চালানো হতে পারে।
রবিবার নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যাল-এ এক পোস্টে ট্রাম্প স্পষ্ট ভাষায় জানান, সোমবারের মধ্যে প্রণালী খুলতে হবে। না হলে বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সেতুর মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় বড় আঘাত হানার হুমকি দেন তিনি। তাঁর এই মন্তব্যে কড়া ভাষার ব্যবহারও দেখা যায়, যা আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
উল্লেখ্য, গত ২৬ মার্চ ট্রাম্প ইরানকে ১০ দিনের সময়সীমা বেঁধে দিয়েছিলেন। সেই সময়সীমা শেষ হওয়ার আগেই এই নতুন হুঁশিয়ারি সামনে এসেছে। হরমুজ প্রণালী, যা বিশ্বব্যাপী তেল পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ, তা গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে কার্যত বন্ধ রয়েছে। ওই সময় থেকেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের যৌথ হামলা শুরু হয় ইরানের ওপর, যার ফলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি বাজারেও প্রভাব পড়েছে।
রবিবার ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প জানান, তিনি এখনও আশাবাদী যে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান সম্ভব। তবে একই সঙ্গে তিনি চাপ বজায় রাখার কথাও বলেন। অন্যদিকে, ইরান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, তারা এই ধরনের হুমকির কাছে নতিস্বীকার করবে না।
জাতিসংঘে ইরানের মিশন ট্রাম্পের এই মন্তব্যকে তীব্র ভাষায় নিন্দা করেছে। তাদের দাবি, বেসামরিক অবকাঠামো ধ্বংসের হুমকি আন্তর্জাতিক আইন ভঙ্গের সামিল এবং তা যুদ্ধাপরাধ হিসেবেও গণ্য হতে পারে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বানও জানানো হয়েছে।
ইরানের প্রেসিডেন্টের দপ্তরের যোগাযোগ বিভাগের উপপ্রধান সৈয়দ মেহেদী টাবাতাবায়ি জানান, যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ না পাওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালী খোলা হবে না। তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতে এই পথ ব্যবহার করতে গেলে জাহাজগুলিকে নির্দিষ্ট ফি দিতে হতে পারে।
টাবাতাবায়ি ট্রাম্পের মন্তব্যকে ‘হতাশা ও রাগের বহিঃপ্রকাশ’ বলে উল্লেখ করেছেন। তাঁর মতে, এই ধরনের ভাষা কোনও গঠনমূলক আলোচনায় সাহায্য করে না। এদিকে, ইরানের শীর্ষ নেতৃত্ব জানিয়েছে, তারা শান্তি আলোচনায় আগ্রহী নয় এবং দেশের অবকাঠামোর ওপর হামলা হলে পাল্টা জবাব আরও জোরদার করা হবে।
মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ-সহ একাধিক আধিকারিকও কঠোর বার্তা দিয়েছেন। তাঁদের বক্তব্য, প্রয়োজনে ইরানের বিরুদ্ধে আরও বড় ধরনের সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।
এরই মধ্যে ইরানের বিভিন্ন সেতু, স্কুল, হাসপাতাল ও বিশ্ববিদ্যালয়ে হামলার খবর সামনে এসেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের আক্রমণ মানবিক দিক থেকে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে এবং কিছু ক্ষেত্রে তা আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন হতে পারে।
সাধারণ মানুষের ওপর এর প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন করা হলে ট্রাম্প জানান, তিনি এ বিষয়ে খুব একটা উদ্বিগ্ন নন। তাঁর দাবি, ইরানের সাধারণ মানুষ ইতিমধ্যেই কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে রয়েছেন।
যুদ্ধ কবে শেষ হতে পারে, সে বিষয়ে স্পষ্ট কিছু জানাননি ট্রাম্প। তবে তিনি বলেছেন, খুব শীঘ্রই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানানো হবে।


