অসম বিধানসভা নির্বাচনের আর মাত্র কয়েকদিন বাকি। তার আগেই রাজ্যের রাজনীতি নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে মুখ্যমন্ত্রীর পরিবারের সদস্যকে ঘিরে ওঠা একাধিক অভিযোগে। বিরোধী দল কংগ্রেসের তরফে তোলা এই অভিযোগ ঘিরে শুরু হয়েছে তীব্র বাকযুদ্ধ। রবিবার দিল্লিতে সাংবাদিক বৈঠক করে কংগ্রেস নেতা পবন খেরা দাবি করেন, মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা-র স্ত্রী রিঙ্কি ভুঁইয়া শর্মার কাছে ভারতের পাশাপাশি আরও কয়েকটি দেশের নাগরিকত্ব রয়েছে। তাঁর কথায়, একাধিক বিদেশি পাসপোর্ট থাকার বিষয়টি গুরুতর এবং এই নিয়ে কেন্দ্রের স্পষ্ট ব্যাখ্যা প্রয়োজন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, ভারতে আদৌ একাধিক নাগরিকত্ব রাখা আইনসম্মত কি না।
এখানেই থেমে থাকেননি খেরা। তিনি আরও অভিযোগ করেন, মুখ্যমন্ত্রীর স্ত্রীর নামে বিদেশে সম্পত্তিও রয়েছে, যার উল্লেখ নির্বাচনী হলফনামায় নেই। কিছু নথির উল্লেখ করে তিনি দাবি করেন, এই সম্পদের একটি অংশ সরাসরি তাঁর স্ত্রীর নামে এবং বাকিটা এমন এক সংস্থার মাধ্যমে রয়েছে, যা অসমে বিপুল বিনিয়োগ করেছে। এই সমস্ত বিষয় খতিয়ে দেখতে নির্বাচন কমিশনের হস্তক্ষেপও দাবি করেন তিনি।
এই অভিযোগের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা। তিনি বলেন, সব অভিযোগই ভিত্তিহীন এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তাঁর দাবি, ভোটের আগে নিজেদের অবস্থান দুর্বল বুঝেই বিরোধীরা এ ধরনের কথা বলছে। পাশাপাশি তিনি স্পষ্ট করে দেন, এই মন্তব্যের জন্য তিনি এবং তাঁর স্ত্রী আইনি পথে হাঁটবেন এবং খুব শীঘ্রই মানহানির মামলা দায়ের করা হবে।
এই ইস্যুতে সরব হয়েছেন কংগ্রেসের আরও এক নেতা গৌরব গগৈ। তিনি সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করে জানান, একাধিক পাসপোর্ট রাখা বা সম্পত্তির তথ্য গোপন করা গুরুতর অপরাধ হতে পারে এবং এই বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া উচিত। তাঁর মতে, এই অভিযোগ সত্য হলে তা শুধু রাজ্য নয়, দেশের জন্যও লজ্জার।
এদিকে নির্বাচনী প্রচারে এসে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধি-ও মুখ্যমন্ত্রীকে তীব্র আক্রমণ করেন। তিনি অভিযোগ করেন, রাজ্যের বিপুল পরিমাণ জমি কিছু কর্পোরেট সংস্থার হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে এবং এর বিনিময়ে রাজনৈতিক সুবিধা নেওয়া হয়েছে। ভোটের আগে এই বিতর্ক রাজ্যের রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। এখন দেখার বিষয়, এই অভিযোগ-প্রতিআভিযোগের লড়াই শেষ পর্যন্ত নির্বাচনের ফলাফলে কতটা প্রভাব ফেলে।


