মঙ্গলবার উত্তর ও পশ্চিম ইরানের বিভিন্ন শহর ও বিমানবন্দরকে লক্ষ্য করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ বাহিনী বড় ধরনের বিমান হামলা চালায়। ইরানের স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, রাজধানী তেহরান ছাড়াও ধর্মীয় গুরুত্বপূর্ণ শহর কোমসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় এই আঘাত হানা হয়। এই ঘটনার পর মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা আরও বেড়ে যায়।
রাতে তেহরানের একাধিক এলাকায় বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। বিশেষ করে তেহরানপার্স ও সাদাতাবাদ নামে আবাসিক অঞ্চলে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এছাড়া শহরের একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র ও কিছু ব্যবসায়িক এলাকায়ও ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গেছে। তেহরানের মেহরাবাদ বিমানবন্দর এবং খোররামাবাদের একটি বিমানবন্দরও এই হামলা থেকে বাদ যায়নি।
কর্তৃপক্ষ জানায়, কোম ও ইয়াযদ শহরের অবকাঠামোকেও লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে। সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, তেহরানের এনঘেলাব এলাকায় অবস্থিত একটি ইহুদি উপাসনালয়ও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেখানে ধর্মীয় বইপত্র ধ্বংসস্তূপের নিচে ছড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে।
এখন পর্যন্ত কোনো মৃত্যুর খবর নিশ্চিত না হলেও, ধর্মীয় স্থানে হামলার ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। আন্তর্জাতিক মহলেও এ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হচ্ছে।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল এই হামলাকে নির্দিষ্ট লক্ষ্যভিত্তিক আঘাত বলে দাবি করেছে। তবে ইরান জানিয়েছে, তারা এই হামলার জবাব দিতে প্রস্তুত এবং তাদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কিছু ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করেছে। বর্তমানে আক্রান্ত এলাকাগুলোতে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি বিরাজমান।


