খড়গপুর পুরসভার ৩৩ নম্বর ওয়ার্ডে বুধবার রাতের ছবি ছিল একেবারেই ভিন্ন। অন্ধকার রাস্তায় হাতে জ্বলন্ত মশাল নিয়ে এলাকার মানুষ নেমে পড়েন প্রতিবাদে। তাঁদের একটাই প্রশ্ন— “কোথায় হিরণ?” এই প্রশ্নকে সামনে রেখেই রবীন্দ্রপল্লি এলাকার প্রায় একশো বাসিন্দা মিছিল করেন। নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সকলে অংশ নেন এই বিক্ষোভে।
মিছিল চলাকালীন “হিরণ পালিয়েছে” বা “HE-RAN” লেখা পোস্টারও চোখে পড়ে। বাসিন্দাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় একাধিক সমস্যা থাকলেও তার কোনও সমাধান হয়নি। বিশেষ করে বিদ্যুৎ সংযোগের অভাব নিয়ে ক্ষোভ সবচেয়ে বেশি। তাঁদের দাবি, কিছু জায়গায় খুঁটি বসানো হলেও বহু এলাকায় এখনও আলো পৌঁছয়নি। ফলে রাত নামলেই গোটা এলাকা অন্ধকারে ডুবে যায়।
এছাড়াও, রাস্তাঘাটের খারাপ অবস্থা ও নিকাশি ব্যবস্থার দুর্বলতা নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। বর্ষার সময় জল জমে থাকা এবং নোংরা পরিবেশের কারণে নিত্যদিন সমস্যায় পড়তে হচ্ছে বলে অভিযোগ। তার সঙ্গে নতুন করে যুক্ত হয়েছে এসআইআর সংক্রান্ত সমস্যা। অনেকের নাম তালিকা থেকে বাদ যাওয়ায় তাঁরা কী করবেন, তা জানতে চাইলেও কাউন্সিলরের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছেন না বলে দাবি বাসিন্দাদের।
উল্লেখ্য, ২০২২ সালের পুরসভা নির্বাচনে এই ওয়ার্ড থেকেই কাউন্সিলর নির্বাচিত হন হিরণ চট্টোপাধ্যায়। ভোটের আগে একাধিক উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল বলে দাবি স্থানীয়দের। কিন্তু এতদিন পরও সেই প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন হয়নি বলেই অভিযোগ উঠছে। এলাকার বাসিন্দারা জানান, সামান্য কিছু কাজ হলেও সামগ্রিকভাবে উন্নয়ন হয়নি। তাঁর কথায়, পিছনের দিকে থাকা বহু বাড়িতে এখনও বিদ্যুতের ব্যবস্থা হয়নি। রাস্তাও ভাঙাচোরা অবস্থায় পড়ে রয়েছে।
অন্যদিকে, বিজেপি নেতা হিরণ চট্টোপাধ্যায়ের প্রতিনিধির দাবি সম্পূর্ণ ভিন্ন। শুভজিৎ ভট্টাচার্য বলেন, এই বিক্ষোভে যারা অংশ নিয়েছেন, তাঁদের অনেকেই সম্প্রতি দল পরিবর্তন করেছেন। তাঁর দাবি, ওয়ার্ডে একাধিক রাস্তা তৈরি হয়েছে, পানীয় জলের ব্যবস্থাও করা হয়েছে এবং অনেক জায়গায় আলো বসানো হয়েছে। তাঁর মতে, ভোটের আগে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করতেই এই কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে।
এই ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়াও সামনে এসেছে। তৃণমূল প্রার্থী প্রদীপ সরকার বাসিন্দাদের ক্ষোভকে সমর্থন করেছেন। অন্যদিকে, বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ কটাক্ষ করে বলেন, ভোটের মুখেই কেন এইসব বিষয় মনে পড়ছে। ভোটের আগে খড়গপুরের এই ওয়ার্ডে সাধারণ মানুষের অসন্তোষ যে রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে, তা স্পষ্ট।


