এসআইআর সংক্রান্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ মামলায় সুপ্রিম কোর্টের এর সাম্প্রতিক রায়কে ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবার ঘোষিত এই রায়কে কেন্দ্র করে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক তীব্র হয়েছে। বিশেষ করে এই প্রসঙ্গে কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম।
আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, যেসব ভোটারের নাম নিয়ে এখনও সিদ্ধান্ত হয়নি, তাঁদের আবেদন দ্রুত নিষ্পত্তি করতে হবে। ট্রাইব্যুনাল যদি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে এই আবেদনগুলির নিষ্পত্তি করে এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অনুমোদন দেয়, তবে তাঁরা ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন। জানা গেছে, প্রথম দফার ভোটের আগে নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে যাঁদের আবেদন মঞ্জুর হবে, তাঁরা ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিতে পারবেন। একই নিয়ম দ্বিতীয় দফার ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য থাকবে, তবে সেখানে আলাদা সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে।
এই রায়ের প্রেক্ষিতে মহম্মদ সেলিম অভিযোগ করেন, গোটা প্রক্রিয়ায় সাধারণ মানুষকে অযথা সমস্যার মুখে পড়তে হয়েছে। তাঁর মতে, শুরু থেকেই প্রশাসনিক প্রস্তুতির অভাব ছিল স্পষ্ট। বিশেষ করে প্রযুক্তিগত সহায়তা এবং প্রয়োজনীয় পরিকাঠামোর ঘাটতির কারণে বহু মানুষের নাম তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হতে পারেনি। ফলে অনেকেই তাঁদের মৌলিক অধিকার প্রয়োগের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, যাঁদের নাম তালিকায় ওঠেনি, তাঁদের নিয়ে যে ধরনের মন্তব্য করা হয়েছিল, তা সম্পূর্ণ অনভিপ্রেত। কোনও নাগরিকের নাম ভোটার তালিকায় না থাকলে তার জন্য সরাসরি দেশদ্রোহিতার মতো গুরুতর তকমা দেওয়া উচিত নয় বলেও তিনি মত প্রকাশ করেন। এই প্রসঙ্গে তিনি কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের কিছু বক্তব্যেরও সমালোচনা করেন।
একইসঙ্গে নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন তোলেন সেলিম। তাঁর দাবি, পরিকল্পনার ঘাটতি এবং প্রশাসনিক ব্যর্থতার কারণেই এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, নির্বাচন ব্যবস্থার ওপর প্রভাব খাটিয়ে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করা হয়েছে এবং অনেক ক্ষেত্রে অযথা জটিলতা তৈরি করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, প্রতিটি নাগরিক যাতে নির্ভয়ে এবং বাধাহীনভাবে ভোট দিতে পারেন, তা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। সেই লক্ষ্যেই গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষার লড়াই চালিয়ে যাওয়ার কথাও জানান তিনি।


