উত্তরপ্রদেশের নয়ডায় চলতে থাকা শ্রমিক আন্দোলনকে ঘিরে শুক্রবার নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়। আন্দোলনরত শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলতে সেখানে যান এম এ বেবি-র নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল। কিন্তু পথে পুলিশ তাদের আটকে দেয়। এর প্রতিবাদে রাস্তায় বসে বিক্ষোভ দেখান তিনি ও তাঁর সঙ্গীরা। দলের অন্যান্য শীর্ষ নেতারাও সেই সময় উপস্থিত ছিলেন। পরে প্রশাসনের কাছে দেখা করার আবেদন জানানো হলে, শ্রমিকদের কাছে যেতে না দেওয়া হলেও জেলা শাসকের সঙ্গে বৈঠকের অনুমতি দেওয়া হয়। সেখানে শ্রমিকদের সমস্যা, তাদের দাবি এবং পুলিশি আচরণ নিয়ে আলোচনা হয় বলে জানা গেছে।
গত কয়েকদিন ধরে নয়ডার বিভিন্ন কারখানার শ্রমিকরা রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ চালাচ্ছেন। তাদের প্রধান দাবি, বর্তমান মজুরি দিয়ে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম বাড়ায় তারা আর্থিক চাপে রয়েছেন। শ্রমিকদের অভিযোগ, দীর্ঘ সময় কাজ করেও তারা খুব কম বেতন পাচ্ছেন। তাই তারা বেতন বাড়ানোর পাশাপাশি কাজের সময় কমানোর দাবিও তুলেছেন।
অন্যদিকে পাশের রাজ্যে কারখানার শ্রমিকদের জন্য বেতন বৃদ্ধির ঘোষণা হলেও, উত্তরপ্রদেশে তেমন কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। এ কারণে অসন্তোষ আরও বেড়েছে।নতুন শ্রম আইন নিয়েও শ্রমিকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তাদের মতে, এতে শ্রমিকদের অধিকার কমে গেছে এবং মালিকপক্ষের হাতে বেশি ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। এই আইন বাতিলের দাবিতে বিভিন্ন জায়গায় প্রতিবাদও চলছে।
এদিকে রাজ্য সরকার এই আন্দোলনের পেছনে অন্য উদ্দেশ্য রয়েছে বলে দাবি করেছে। মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ জানিয়েছেন, আইনশৃঙ্খলা নষ্টের চেষ্টা হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।শ্রমিকদের আন্দোলন থামাতে পুলিশ কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে বলেও অভিযোগ। বেশ কিছু শ্রমিককে আটক করা হয়েছে। এই ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়েছে সিপিএম।


