মুর্শিদাবাদের বহরমপুর শহরে এক সাম্প্রতিক ঘটনাকে ঘিরে রাজনীতির অন্দরমহলে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। একটি ভিডিওকে কেন্দ্র করে প্রশ্ন উঠছে, বিজেপি বিরুদ্ধে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রকৃত অবস্থান আসলে কী। ঘটনাটি এমন এক সময়ে সামনে এসেছে, যখন বহরমপুর বিধানসভা কেন্দ্রকে ঘিরে তীব্র রাজনৈতিক লড়াই চলছে।
এই প্রেক্ষাপটে শহরের সৈয়দাবাদ এলাকায় ঘটে যাওয়া একটি ঘটনা বিশেষভাবে আলোচনায় এসেছে। জানা গেছে, ওই এলাকায় কংগ্রেস কর্মীরা তাঁদের প্রার্থীর সমর্থনে ফ্লেক্স লাগাচ্ছিলেন। সেই সময় তৃণমূলের এক যুব নেতা পাপাই ঘোষ সেখানে এসে বাধা দেন। অভিযোগ, তিনি প্রশ্ন তোলেন কেন মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষ একটি হিন্দু অধ্যুষিত এলাকায় এই ধরনের প্রচার করবেন। এই মন্তব্য ঘিরেই শুরু হয়েছে বিতর্ক।
অনেকেই মনে করছেন, বহরমপুরের মতো ঐতিহ্যবাহী শহরে এ ধরনের বক্তব্য অপ্রত্যাশিত। এই শহর বহুদিন ধরেই বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বের জন্য পরিচিত। সেখানে নিজেদের ধর্মনিরপেক্ষ দল বলার নেতার মুখে এমন মন্তব্য সামনে আসায় রাজনৈতিক মহলে চর্চা তুঙ্গে।
মুর্শিদাবাদ জেলা অতীতে বহুবার সাম্প্রদায়িক উত্তেজনার সাক্ষী থেকেছে। ইতিহাস বলছে, বিভিন্ন সময়ে এখানে ধর্মীয় বিভাজনকে কেন্দ্র করে অশান্তি তৈরি হয়েছে। নির্বাচন এলেই সেই পরিস্থিতি আরও সংবেদনশীল হয়ে ওঠে। ফলে এই ধরনের মন্তব্য বা আচরণ অনেকের কাছেই উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, তৃণমূল কংগ্রেস সাম্প্রতিক সময়ে নিজেদের অবস্থান বদলানোর চেষ্টা করছে। তারা একদিকে বিজেপির বিরুদ্ধে সরব থাকলেও, অন্যদিকে হিন্দু ভোটব্যাঙ্ক ধরে রাখতে বিশেষ কিছু পদক্ষেপ নিচ্ছে। বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠান বা মিছিলেও দলের সক্রিয় উপস্থিতি এখন চোখে পড়ার মতো।
এই প্রসঙ্গে অনেকেই বলছেন, রাজনীতিতে ধর্মের প্রভাব বাড়তে থাকলে তার প্রভাব সমাজেও পড়ে। ভোটের হিসাব-নিকাশে যদি ধর্মীয় পরিচয় বড় হয়ে ওঠে, তাহলে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভাজন তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থাকে। বিশেষ করে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতার অনুভূতি বাড়তে পারে বলে মত অনেকের।
যদিও তৃণমূল নেতৃত্বের পক্ষ থেকে এই অভিযোগ নিয়ে এখনও বিস্তারিত কোনও প্রতিক্রিয়া সামনে আসেনি। তবে ঘটনাটি সামনে আসার পর থেকেই রাজনৈতিক চাপানউতোর বেড়েছে। কংগ্রেস ও অন্যান্য বিরোধী দল বিষয়টি নিয়ে তৃণমূলকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করতে শুরু করেছে।
সব মিলিয়ে বহরমপুরের এই ঘটনা শুধু একটি স্থানীয় বিতর্কে সীমাবদ্ধ থাকেনি। এটি এখন বড় রাজনৈতিক আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। নির্বাচনের আগে এই ধরনের ঘটনা ভবিষ্যতে রাজ্যের রাজনীতিতে কী প্রভাব ফেলবে, সেদিকেই নজর রয়েছে সকলের।


