পশ্চিম এশিয়ার অশান্ত পরিস্থিতির প্রভাব এবার ভারতের ওপরও স্পষ্টভাবে পড়ছে। বিশেষ করে রান্নার গ্যাস বা এলপিজির ঘাটতি দেশের বিভিন্ন অংশে সমস্যা তৈরি করেছে। এই জ্বালানির সরবরাহ কমে যাওয়ায় বহু কারখানা ঠিকমতো চালানো যাচ্ছে না। ফলে শিল্পক্ষেত্রে কাজ কমে গিয়েছে এবং বহু শ্রমিক কাজ হারিয়েছেন।
গুজরাটের সুরাত শহর মূলত টেক্সটাইল শিল্পের জন্য পরিচিত, সেখানে এই সমস্যার প্রভাব বেশি দেখা যাচ্ছে। গ্যাসের অভাবে অনেক কারখানা বন্ধ হয়ে পড়েছে বা আংশিকভাবে চলছে। এর ফলে প্রায় তিন লক্ষ শ্রমিকের কাজ চলে গেছে বলে জানা গিয়েছে। এই সংখ্যাটি মোট শ্রমিকের প্রায় ৩০ শতাংশ। কাজ না থাকায় পরিযায়ী শ্রমিকরা বাধ্য হয়ে নিজেদের রাজ্যে ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন।
রবিবার সুরাতের উধানা রেল স্টেশনে কাজ হারানো হাজারের বেশি শ্রমিক জড়ো হন। তাঁদের বেশিরভাগই উত্তরপ্রদেশ ও বিহারের বাসিন্দা। সবার একটাই লক্ষ্য, যেভাবেই হোক বাড়ি ফেরা। ট্রেনে ওঠার জন্য স্টেশনে বিশাল ভিড় তৈরি হয়। পরিস্থিতি এমন হয়ে দাঁড়ায় যে অনেকেই ঠেলাঠেলি শুরু করেন। কেউ কেউ লাইনের নিয়ম না মেনে সামনে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন, যার ফলে বিশৃঙ্খলা বাড়ে।
পরিস্থিতি সামাল দিতে রেল পুলিশ ও আরপিএফ দ্রুত পদক্ষেপ করে। ভিড় নিয়ন্ত্রণ করতে তারা লাঠিচার্জ করে। সেই সময়ের কিছু ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। সেখানে দেখা যাচ্ছে, মানুষ প্রাণ বাঁচাতে দৌড়াচ্ছেন, কেউ আবার স্টেশনের রেলিং টপকে বেরিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। ভিড়ের চাপে দুর্ঘটনার আশঙ্কাও তৈরি হয়েছিল।
রেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ওই দিন সকাল থেকে উধানা স্টেশন দিয়ে উত্তরপ্রদেশ ও বিহারগামী মোট ছয়টি ট্রেন ছেড়েছে এবং তাতে ২১ হাজারেরও বেশি যাত্রী উঠেছেন। এত সংখ্যক মানুষের ভিড় সামলানো অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছিল। বারবার ঘোষণা করা হলেও অনেকেই তা মানেননি।
প্রশাসনের মতে, এই সময়ে গরমের ছুটি থাকায় প্রতি বছরই স্টেশনে ভিড় হয়। তার সঙ্গে এ বছর কাজ হারানো শ্রমিকদের ভিড় যোগ হওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। যদি দ্রুত গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক না হয়, তাহলে শিল্প ও শ্রমিকদের অবস্থা আরও খারাপ হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।


