আমেরিকা ও ইরানের সম্পর্ক ফের উত্তপ্ত হয়ে উঠছে কি না, তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে আন্তর্জাতিক মহলে। সাম্প্রতিক কয়েকটি ঘটনার জেরে দুই দেশের মধ্যে চাপা উত্তেজনা দ্রুত বাড়ছে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
ঘটনার শুরু হয় একটি ইরানি বাণিজ্যিক জাহাজকে ঘিরে। জাহাজটি চিন থেকে ইরানের দিকে যাচ্ছিল। অভিযোগ, হরমুজ প্রণালীর কাছে মার্কিন অবরোধ অমান্য করায় সেটিকে লক্ষ্য করে প্রথমে গুলি চালায় মার্কিন বাহিনী। পরে জাহাজটির নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নেয় তারা। এই ঘটনার পরই তীব্র প্রতিক্রিয়া জানায় তেহরান।
এর মধ্যেই ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ-এর সঙ্গে কথা বলেন। পরিস্থিতি নিয়ে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে।
এরপর পাল্টা পদক্ষেপ নেয় ইরান। খবর অনুযায়ী, ওমান সাগরে মার্কিন একটি যুদ্ধজাহাজকে লক্ষ্য করে ড্রোন ব্যবহার করে হামলা চালানো হয়। যদিও এই আক্রমণে কতটা ক্ষতি হয়েছে, তা স্পষ্টভাবে জানা যায়নি। কতগুলি ড্রোন ব্যবহার করা হয়েছে, সেই তথ্যও সামনে আসেনি।
এর আগেই দুই দেশের মধ্যে অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি ঘোষণা হয়েছিল। তবে এই নতুন ঘটনার জেরে সেই শান্তি বজায় থাকবে কি না, তা নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি আবার সংঘর্ষের দিকে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা।
এদিকে, হরমুজ প্রণালী নিয়েও নতুন করে জটিলতা তৈরি হয়েছে। কিছুদিন আগেই ইরান জানায়, নির্দিষ্ট সময়ের জন্য ওই জলপথ খোলা থাকবে। কিন্তু পরে সেই সিদ্ধান্ত বদলে দেওয়া হয়। ফলে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। খবর অনুযায়ী, এই সময়ের মধ্যেই ভারতের দুটি তেলবাহী জাহাজকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়। ঘটনাটি ঘটে প্রণালীর একটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকায়। তবে এতে কোনও হতাহতের খবর নেই। নিরাপত্তার কারণে ওই জাহাজগুলি পথ পরিবর্তন করতে বাধ্য হয়। একটি জাহাজে বিপুল পরিমাণ তেল ছিল বলে জানা গেছে।
এই পরিস্থিতির প্রভাব পড়েছে আন্তর্জাতিক বাজারেও। তেলের দামে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। সব মিলিয়ে, মধ্যপ্রাচ্যের এই উত্তেজনা এখন বিশ্ব অর্থনীতি ও নিরাপত্তার জন্য বড় চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।


