উত্তরপ্রদেশের বস্তি জেলা থেকে উঠে এসেছে এক অদ্ভুত এবং উদ্বেগজনক ঘটনা, যা প্রশাসনিক গাফিলতির বড় উদাহরণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই ঘটনার কেন্দ্রে রয়েছেন ইশাক আলি নামে এক ব্যক্তি, যিনি সরকারি নথিতে ‘মৃত’ হিসেবে চিহ্নিত হলেও বাস্তবে তিনি বহু বছর ধরে জীবিত ছিলেন এবং সরকারি চাকরিও করে গিয়েছেন।
ইশাক আলি নাথনগর এলাকার একটি কমিউনিটি হেলথ সেন্টারে সাফাইকর্মী হিসেবে কাজ করতেন। দীর্ঘদিন চাকরি করার পর ২০১৯ সালের ৩১ ডিসেম্বর তিনি অবসর গ্রহণ করেন এবং সহকর্মীদের কাছ থেকে বিদায়ও নেন। কিন্তু অবাক করার মতো বিষয় হল, রাজস্ব দপ্তরের নথি অনুযায়ী, তাকে ২০১২ সালের ২ ডিসেম্বরই মৃত বলে ঘোষণা করা হয়েছিল—অর্থাৎ বাস্তবে অবসর নেওয়ার সাত বছর আগেই।
এই ভুল তথ্যের জেরে তার পৈতৃক কৃষিজমি, যার প্লট নম্বর ৮৯২, একই গ্রামের এক মহিলার নামে হস্তান্তর হয়ে যায়। অথচ এই সময়ের মধ্যেই, অর্থাৎ ২০১২ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত, তিনি স্বাস্থ্য দপ্তর থেকে নিয়মিত বেতন পেয়ে গিয়েছেন। একদিকে সরকারি দপ্তর তাকে জীবিত কর্মচারী হিসেবে দেখছে, অন্যদিকে আরেক দপ্তরের নথিতে তিনি মৃত—এই বৈপরীত্য প্রশাসনের সমন্বয়হীনতার বড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।
অভিযোগ উঠেছে, রাজস্ব দপ্তরের এক কর্মী ভুলবশত বা অন্য কোনো কারণে এই ‘মৃত’ ঘোষণা নথিভুক্ত করেছিলেন। বর্তমানে এই বিষয়টি তদন্তাধীন। নিজের এই অদ্ভুত সমস্যার দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করতে ইশাক আলি অভিনব প্রতিবাদের পথ বেছে নেন। তিনি উপ-জেলা শাসকের দপ্তরের সামনে কাফনের কাপড় জড়িয়ে “স্যার, আমি বেঁচে আছি” লেখা প্ল্যাকার্ড হাতে দাঁড়ান। এই ঘটনার একটি ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে এবং ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে।
প্রশাসনের কাছে নিজের বক্তব্য রাখতে গিয়ে ইশাক আলি বলেন, “স্যার, আমি বেঁচে আছি, কিন্তু কাগজে আমাকে মৃত দেখানো হয়েছে। আমার জমিই আমার পরিচয়, আর সেটি ফিরে পেতে আমি বহু বছর ধরে লড়াই করছি।” বর্তমানে তিনি পেনশন পাচ্ছেন ঠিকই, কিন্তু নিজের পরিচয় এবং জমির অধিকার ফিরে পাননি।
স্থানীয় বাসিন্দারাও এই ঘটনায় বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, যাকে তারা প্রতিদিন দেখেছেন, কাজ করতে দেখেছেন, তাকে কীভাবে মৃত ঘোষণা করা হল, তা বোঝা কঠিন। অনেকেই আশঙ্কা করছেন, এমন ভুল যদি ঘটে, তাহলে ভবিষ্যতে যে কেউ একই সমস্যার সম্মুখীন হতে পারেন।
এই বিষয়ে উপ-জেলা শাসক শত্রুঘ্ন পাঠক জানিয়েছেন, পুরো ঘটনাটি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে এবং তদন্ত চলছে। যদি কোনো সরকারি কর্মীর গাফিলতি প্রমাণিত হয়, তাহলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের ঘটনা খুব বেশি দেখা যায় না, তবে এটি সরকারি দপ্তরগুলির মধ্যে আরও ভালো সমন্বয় এবং নির্ভুল নথি সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তার দিকটি স্পষ্ট করে দেয়। ইশাক আলির লড়াই এখনও চলছে—তার একটাই দাবি, নিজের নাম, জমি এবং পরিচয় ফিরে পাওয়া।


