রাজনীতির ময়দানে বড়সড় পরিবর্তনের সাক্ষী থাকল দেশ। শুক্রবার রাঘব চাড্ডা, অশোক কুমার মিত্তল এবং সন্দীপ পাঠক—এই তিন রাজ্যসভার সাংসদ আম আদমি পার্টি (AAP) থেকে ইস্তফা দিয়ে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)-তে যোগ দিলেন। এই ঘটনাকে রাজনৈতিক মহল বড় ধাক্কা হিসেবেই দেখছে, বিশেষ করে দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল-এর জন্য।শুক্রবার একটি সাংবাদিক বৈঠকে এই সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করেন রাঘব চাড্ডা। তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন সন্দীপ পাঠক ও অশোক মিত্তল। চাড্ডা জানান, রাজ্যসভায় AAP-র মোট সাংসদদের মধ্যে দুই-তৃতীয়াংশ সদস্য একসঙ্গে সংবিধানের বিধান মেনে বিজেপির সঙ্গে একীভূত হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ইতিমধ্যেই এই বিষয়ে প্রয়োজনীয় নথি ও স্বাক্ষর রাজ্যসভার চেয়ারম্যানের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।দলের সঙ্গে দূরত্ব কেন তৈরি হল, সেই প্রশ্নের জবাবেও সরাসরি কথা বলেন চাড্ডা। তাঁর অভিযোগ, AAP এখন আর আগের মতো আদর্শ ও নীতিতে অটল নেই। বরং দল ব্যক্তিগত স্বার্থকে প্রাধান্য দিচ্ছে। তিনি বলেন, গত ১৫-১৬ বছর ধরে তিনি যে রাজনৈতিক কাজ করেছেন, তা ছেড়ে দেওয়া বা রাজনীতি থেকে সরে যাওয়া—এই দুই পথই খোলা ছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তিনি “ইতিবাচক রাজনীতি” করার পথই বেছে নিয়েছেন।চাড্ডার আরও দাবি, শুধু এই তিনজনই নন, আরও কয়েকজন সাংসদও AAP ছাড়ার পথে। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন স্বাতী মালিওয়াল, হরভজন সিং, রাজিন্দর গুপ্ত এবং বিক্রমজিৎ সিং সাহনি। যদিও এই দাবির সত্যতা নিয়ে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি।উল্লেখ্য, ২০২২ সাল থেকে রাঘব চাড্ডা, অশোক মিত্তল ও সন্দীপ পাঠক AAP-র হয়ে রাজ্যসভায় প্রতিনিধিত্ব করছিলেন। সম্প্রতি দলের সঙ্গে চাড্ডার সম্পর্কের টানাপোড়েন প্রকাশ্যে আসে। চলতি মাসের শুরুতেই তাঁকে রাজ্যসভায় AAP-র ডেপুটি লিডারের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। দলের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, তিনি সংসদে কেন্দ্রীয় সরকার ও প্রধানমন্ত্রীকে ততটা কড়া ভাষায় আক্রমণ করছেন না এবং নিজের প্রচারে বেশি মন দিচ্ছেন।এই অভিযোগ অবশ্য খারিজ করে দিয়েছেন চাড্ডা। তাঁর বক্তব্য, তিনি সংসদে বিশৃঙ্খলা তৈরির জন্য নয়, মানুষের সমস্যা তুলে ধরার জন্যই গিয়েছিলেন। নিজের কাজ দিয়েই তিনি জবাব দিতে চান বলেও জানিয়েছেন। এই ঘটনায় দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি হতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। বিশেষ করে রাজ্যসভায় AAP-র শক্তি কমে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে বিজেপির পক্ষে এটি বড়সড় শক্তিবৃদ্ধি বলেই মনে করা হচ্ছে।
Popular Categories


