উত্তর ২৪ পরগনার পানিহাটিতে ভোটপ্রচারের শেষ দিনে রাজনৈতিক উত্তেজনা ছড়াল। সিপিএম প্রার্থী কলতান দাশগুপ্তর সমর্থনে প্রচার চালানোর সময় হামলার অভিযোগ উঠল বিজেপি সমর্থকদের বিরুদ্ধে। ঘটনাটি ঘটেছে আগরপাড়ার ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ড এলাকায়। এই ঘটনায় আহত হয়েছেন সিপিএম কর্মী সুরজিৎ মুখার্জি এবং তাঁর মেয়ে শ্রীলেখা, যিনি স্থানীয় এক ছাত্রী।
সোমবার বিকেলে এলাকায় বামফ্রন্টের প্রচারের জন্য একটি টোটো নিয়ে প্রচার চালানো হচ্ছিল। অভিযোগ, সেই সময় কাছেই বিজেপির একটি পথসভা চলছিল। সিপিএম-এর দাবি, বিজেপি সমর্থকরা প্রথমে তাদের প্রচার বন্ধ করে এলাকা ছেড়ে চলে যেতে বলে। এরপর আচমকাই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, প্রকাশ্য সভামঞ্চ থেকে ওই এলাকার বিজেপি প্রার্থী রত্না দেবনাথের উস্কানিমূলক মন্তব্য উত্তপ হয়ে ওঠে পরিস্থিতি।
আক্রান্ত শ্রীলেখার অভিযোগ, বাইরে থেকে আসা কয়েকজন বিজেপি কর্মী টোটোর সামনে এসে বাধা দেয়। তিনি বলেন, আচমকা মাইকের তার ছিঁড়ে দেওয়া হয় এবং তাঁকে ও তাঁর বাবাকে মারধর করা হয়। শ্রীলেখার আরও দাবি, ঘটনাস্থলে পুলিশ উপস্থিত থাকলেও তারা কোনওভাবে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেনি। সাহায্যের জন্য আবেদন করলেও পুলিশ এগিয়ে আসেনি বলেই অভিযোগ তাঁর।
এই ঘটনার পর এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। সিপিএম নেতৃত্ব দ্রুত প্রতিবাদে সরব হয়। ঘটনার বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। পাশাপাশি নির্বাচন কমিশনের কাছেও লিখিত অভিযোগ জানানো হয়েছে বলে দলীয় সূত্রে খবর।
ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছেন প্রার্থী কলতান দাশগুপ্ত। তিনি বলেন, এই হামলার মাধ্যমে বিজেপির আসল চরিত্র সামনে এসেছে। তাঁর অভিযোগ, মহিলাদের প্রতি অসম্মান ও আক্রমণের ঘটনা বারবার ঘটছে, অথচ বিজেপি নেতৃত্ব এ নিয়ে কোনও দায় নিচ্ছে না। তিনি দাবি করেন, পানিহাটির ঘটনায় এক তরুণীর উপর হামলা চালিয়ে বিজেপি নিজেদের মানসিকতার পরিচয় দিয়েছে।
রাজনৈতিক বক্তব্য রাখতে গিয়ে কলতান আরও বলেন, দেশের বিভিন্ন প্রান্তে মহিলাদের উপর অত্যাচারের বহু ঘটনা ঘটেছে। সেই সময়েও বামপন্থীরা প্রতিবাদ করেছে। তাঁর দাবি, নারী সুরক্ষা নিয়ে বিজেপি ও তৃণমূল— কোনও দলই মানুষের ভরসা অর্জন করতে পারেনি।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, ভোটের আগে এলাকায় বাইরের লোক ঢোকানো হয়েছে। সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার বার্তাও দেন তিনি। তাঁর কথায়, পানিহাটিতে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নষ্ট করার চেষ্টা চলছে। বিজেপি এবং তৃণমূল— দুই দলকেই কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন তিনি। দ্বিতীয় দফার ভোটের আগে এই ঘটনা ঘিরে পানিহাটির রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যেও ঘটনাকে কেন্দ্র করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।


