মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের শান্তি আলোচনা এখন অনিশ্চিত। এই পরিস্থিতিতে উপসাগরীয় অঞ্চলের প্রতিবেশী দেশগুলির উদ্দেশে কড়া বার্তা দিয়েছে তেহরান। ইরানের শীর্ষ নেতৃত্ব স্পষ্ট করে জানিয়েছে, কেউ যদি আমেরিকার পাশে দাঁড়ায়, তবে তার ফল ভালো হবে না।
ইরানের এক শীর্ষ নেতা ইসমাইল ইসফাহান সতর্ক করে বলেছেন, দেশের গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামোতে আঘাত এলে জবাব হবে অনেক বেশি কঠোর। বিশেষ করে তেল সংক্রান্ত স্থাপনায় হামলা হলে তার প্রতিক্রিয়া একাধিক গুণে বাড়বে বলে তিনি উল্লেখ করেছেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় তিনি লিখেছেন, যে কোনও আক্রমণের পাল্টা জবাব দিতে প্রস্তুত ইরান এবং যারা হামলাকারীদের সমর্থন করবে, তারাও ক্ষতির মুখে পড়বে।
অন্যদিকে, হরমুজ প্রণালী ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, এই অবরোধের ফলে ইরানের বড় আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে। তবে ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ পাল্টা জানিয়েছেন, জ্বালানি সরবরাহে ইরানের শক্ত অবস্থান রয়েছে। তাঁর মতে, গরমের সময়ে তেলের চাহিদা বাড়ে, তাই এই সময় হরমুজ বন্ধ থাকলে আমেরিকারই বেশি সমস্যা হবে।
এদিকে, আলোচনায় বসার আগে আমেরিকার কাছে দুটি শর্ত রেখেছে ইরান। প্রথমত, সব ধরনের অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে হবে। দ্বিতীয়ত, দীর্ঘমেয়াদি শান্তির নিশ্চয়তা দিতে হবে। ইরান জানিয়েছে, এই দাবিগুলি মানা হলে তবেই পরমাণু ইস্যু নিয়ে কথা বলা সম্ভব।
অপর দিকে মার্কিন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, দীর্ঘদিনের সামরিক অভিযানের ফলে আমেরিকার অস্ত্রভাণ্ডার অনেকটাই কমে এসেছে। আধুনিক যুদ্ধাস্ত্র ব্যাপক ব্যবহারের কারণে মজুত কমে যাওয়ায় নতুন করে তা গড়ে তোলা কতটা সহজ হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। পাশাপাশি এই সামরিক খরচে বিপুল আর্থিক চাপ তৈরি হয়েছে আমেরিকার উপর।


