বিহারে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নতুন এক সরকারি নির্দেশ ঘিরে শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক আলোচনা। রাজ্য সরকারের তরফে জানানো হয়েছে, এখন থেকে সব সরকারি স্কুল ও মাদ্রাসায় দিনের শুরুতে ‘বন্দে মাতরম’ গাওয়া হবে। এর পর শিক্ষার্থীরা গাইবে জাতীয় সঙ্গীত ‘জনগণমন’। পাশাপাশি, দিনের শেষে ছুটির সময় রাজ্যের নিজস্ব গান গাওয়ার কথাও বলা হয়েছে।
সরকারি মহলের দাবি, এই পদক্ষেপের মূল লক্ষ্য হল ছোটদের মধ্যে দেশপ্রেম ও শৃঙ্খলার বোধ তৈরি করা। এক আধিকারিকের কথায়, স্কুলের পরিবেশেই যদি দেশের প্রতি সম্মান শেখানো যায়, তবে তা ভবিষ্যতে তাদের মানসিক গঠনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। বিজেপি নেতারা এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাঁদের মতে, স্বাধীনতা আন্দোলনের সময় জাতীয় গানগুলির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল, তাই সেগুলি শিক্ষার অংশ হওয়া উচিত। তাঁদের যুক্তি, এর মাধ্যমে ছাত্রছাত্রীরা দেশের ইতিহাস ও সংস্কৃতির সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠভাবে পরিচিত হতে পারবে।
তবে বিরোধী শিবির এই সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেছে। তাঁদের অভিযোগ, এই ধরনের নির্দেশ জোর করে চাপিয়ে দেওয়া ঠিক নয়। বিরোধীদের মতে, সাধারণ মানুষ স্কুলের উন্নত পরিকাঠামো, ভালো শিক্ষক ও নিয়মিত পরীক্ষার ব্যবস্থা চান। সেই বিষয়গুলির দিকেই সরকারের বেশি মনোযোগ দেওয়া প্রয়োজন ছিল। এদিকে, ‘বন্দে মাতরম’ নিয়ে অতীতেও বিভিন্ন সময়ে বিতর্ক দেখা গেছে, বিশেষ করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এর ব্যবহার ও ব্যক্তিগত স্বাধীনতার প্রশ্নে। যদিও বিহারের কিছু এলাকায় আগে থেকেই সকালের প্রার্থনায় এই গান গাওয়ার রীতি চালু রয়েছে।
শিক্ষাবিদদের একাংশের মতে, এমন উদ্যোগ অনেক সময় জাতীয় পরিচয় ও ব্যক্তিগত স্বাধীনতার মধ্যে ভারসাম্য নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তোলে। বিশেষ করে বহুধর্মী ও বৈচিত্র্যময় সমাজে এই বিষয়গুলি আরও সংবেদনশীল হয়ে ওঠে। সব মিলিয়ে, নতুন এই নির্দেশকে কেন্দ্র করে বিহারের রাজনৈতিক মহলে মতভেদ স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। একদিকে দেশপ্রেম জাগানোর উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে, অন্যদিকে বাস্তব সমস্যার থেকে নজর ঘোরানোর অভিযোগ উঠছে। এই বিতর্কের মাঝেই শিক্ষা ব্যবস্থার মূল লক্ষ্য কী হওয়া উচিত, তা নিয়েই নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।


