ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ফিফার তরফ থেকে দেওয়া ‘শান্তি পুরস্কার’ ঘিরে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে আন্তর্জাতিক ফুটবল মহলে। নরওয়ের ফুটবল সংস্থা এই পুরস্কার বাতিলের দাবি তুলে সরব হয়েছে। তাদের মতে, ফুটবল সংস্থার পক্ষ থেকে এ ধরনের সম্মান প্রদান করা সংস্থার নিরপেক্ষ অবস্থানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
সম্প্রতি এক প্রতিক্রিয়ায় নরওয়ে ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি লিসে ক্লাভেনেস জানান, খেলাধুলার বাইরের বিষয়ে ফিফার এমন উদ্যোগ গ্রহণ করা উচিত হয়নি। তিনি বলেন, এই ধরনের সম্মান দেওয়ার দায়িত্ব কোনও ক্রীড়া সংস্থার নয়। বরং এ কাজের জন্য আলাদা প্রতিষ্ঠান রয়েছে, যারা নিরপেক্ষভাবে এই দায়িত্ব পালন করে থাকে।
ঘটনার সূত্রপাত ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে। যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপ ড্র অনুষ্ঠানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ‘শান্তি পুরস্কার’ তুলে দেন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। সেই সময় থেকেই বিষয়টি নিয়ে নানা মহলে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। অনেকেই মনে করেন, আন্তর্জাতিক রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত একজন বিতর্কিত ব্যক্তিকে এমন সম্মান দেওয়া ঠিক হয়নি।
বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক সংঘাতের প্রেক্ষিতে এই সিদ্ধান্ত আরও বেশি সমালোচনার মুখে পড়ে। ইসরাইল ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধির পর বিভিন্ন পক্ষ থেকে অভিযোগ ওঠে যে, মার্কিন প্রশাসনের ভূমিকা সেই পরিস্থিতিকে প্রভাবিত করেছে। এর জেরে ট্রাম্পকে দেওয়া এই সম্মান নিয়ে অসন্তোষ আরও তীব্র হয়।
নরওয়ের ফুটবল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তারা শীঘ্রই ফিফাকে একটি আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠাবে। সেই চিঠিতে তারা পুরস্কারটি প্রত্যাহারের অনুরোধ জানাবে। পাশাপাশি, ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে যথাযথ নিয়ম মেনে চলা হয়, সে বিষয়েও তারা গুরুত্ব দেবে।
লিসে ক্লাভেনেস আরও বলেন, ফিফার উচিত নিজেদের মূল দায়িত্বের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকা। ফুটবলকে রাজনীতির বাইরে রাখা প্রয়োজন বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তার মতে, এমন পদক্ষেপ বিশ্ব ফুটবলের ভাবমূর্তির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
এই ঘটনায় ফুটবল জগতের বিভিন্ন মহলও দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছে। কেউ কেউ নরওয়ের দাবিকে সমর্থন করছেন, আবার কেউ মনে করছেন ফিফার সিদ্ধান্ত তাদের নিজস্ব ব্যাপার।


