দিল্লির জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে এক বিতর্কিত ঘটনার জেরে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। ছাত্রছাত্রীদের অভিযোগ, ক্যাম্পাসে আরএসএসের আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে গিয়ে তাঁদের উপর নিরাপত্তাকর্মীদের তরফে হামলা ও দুর্ব্যবহার করা হয়েছে। ঘটনাটি মঙ্গলবার ঘটে বলে জানা গেছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের অডিটোরিয়ামের সামনে ওই দিন বহু ছাত্রছাত্রী জড়ো হন। তাঁদের দাবি, রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ-এর শতবর্ষ উপলক্ষে ‘যুব কুম্ভ’ নামে একটি কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছিল, যার বিরোধিতা করতেই এই জমায়েত। প্রতিবাদকারীদের বক্তব্য, তাঁরা শান্তিপূর্ণভাবে নিজেদের মত প্রকাশ করছিলেন, কিন্তু হঠাৎ করেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
এক ছাত্রনেতা জানান, শুরু থেকেই অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছানোর পথগুলি আটকে দেওয়া হয়েছিল। পরে অন্য একটি প্রবেশপথ দিয়ে তাঁরা ভেতরে ঢুকতে সক্ষম হন। সেখানে বিপুল সংখ্যক নিরাপত্তারক্ষী মোতায়েন ছিল। অভিযোগ, স্লোগান দেওয়ার সময় আচমকা নিরাপত্তাকর্মীরা আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠেন। এক ছাত্র গুরুতরভাবে আহত হয়ে অজ্ঞান হয়ে পড়েন এবং তাঁকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। এখনও তাঁর চিকিৎসা চলছে বলে জানা গেছে।
আরও অভিযোগ উঠেছে যে, মহিলা পড়ুয়াদের সঙ্গেও খারাপ ব্যবহার করা হয়েছে। কিছু পুরুষ নিরাপত্তারক্ষীর বিরুদ্ধে শালীনতাহানির অভিযোগ তুলেছেন প্রতিবাদকারীরা। এই ঘটনার পর ছাত্রমহলে ক্ষোভ আরও বাড়ে। অন্যদিকে, ছাত্র সংগঠন স্টুডেন্ট ফেডারেশন অফ ইন্ডিয়া-এর পক্ষ থেকেও একই ধরনের অভিযোগ সামনে এসেছে। তাদের দাবি, এই ঘটনায় তাদের একাধিক সদস্যসহ বহু ছাত্রছাত্রী আহত হয়েছেন। সংগঠনের এক নেতার কথায়, প্রশাসন পরিকল্পিতভাবে প্রতিবাদ দমন করতে কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে। তা সত্ত্বেও তাঁরা আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
ছাত্রদের আরও অভিযোগ, ওই দিন সকাল থেকেই গোটা ক্যাম্পাসে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা জারি করা হয়। প্রচুর পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছিল, যার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ একপ্রকার চাপে ঢাকা পড়ে। অনেকের মতে, একটি নির্দিষ্ট অনুষ্ঠানের জন্য পুরো ক্যাম্পাসকে প্রায় নিয়ন্ত্রিত অঞ্চলে পরিণত করা হয়েছিল। এই ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।


