বিনায়ক দামোদর সাভারকর-কে ঘিরে বিতর্ক নতুন মোড় নিল পুনের বিশেষ এমপি/এমএলএ আদালতে। আদালতে সাক্ষ্য দিতে গিয়ে সাভারকরের প্রপৌত্র সাত্যকি সাভারকর স্বীকার করেছেন যে সেলুলার জেলে বন্দী অবস্থায় সাভারকর ব্রিটিশ সরকারের কাছে পাঁচবার ক্ষমার আবেদন করেছিলেন।
এই সাক্ষ্য উঠে আসে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী-র বিরুদ্ধে দায়ের করা ফৌজদারি মানহানি মামলার শুনানিতে। অভিযোগ, লন্ডনে দেওয়া এক বক্তৃতায় সাভারকর সম্পর্কে আপত্তিকর মন্তব্য করেছিলেন রাহুল গান্ধী।
জেরার সময় সাত্যকি জানান, সাভারকর পাঁচবার ক্ষমা প্রার্থনা করেছিলেন ঠিকই, তবে সে সময়ে বহু রাজনৈতিক বন্দীই একই ধরনের আবেদন করেছিলেন। তিনি আরও স্বীকার করেন, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালীন ব্রিটিশ সেনাবাহিনীতে নিয়োগ সংক্রান্ত আবেদনও করা হয়েছিল। তবে তাঁর দাবি, এর উদ্দেশ্য ছিল ভারতীয় যুবকদের সামরিক প্রশিক্ষণ দেওয়া, যাতে স্বাধীনতার পর একটি দক্ষ প্রতিরক্ষা বাহিনী গড়ে তোলা যায়।
জেরায় সাত্যকি বলেন, সাভারকর কখনও গরুকে ‘ঈশ্বর’ বলেননি। তাঁর মতে, সাভারকর গরুকে কেবল একটি ‘উপকারী প্রাণী’ হিসেবেই দেখতেন।
সাভারকরের বিরুদ্ধে ‘দ্বিজাতি তত্ত্ব’-এর প্রবক্তা হওয়ার অভিযোগ প্রসঙ্গে সাত্যকি জানান, কিছু ঐতিহাসিকের মতে এই দাবি সঠিক নয়। তাঁর বক্তব্য, সাভারকর বিতর্কে মন্তব্য করলেও এই তত্ত্বের মূল প্রস্তাবক ছিলেন স্যার সৈয়দ আহমেদ খান।
কেন ভগত সিং বা বটুকেশ্বর দত্ত-এর তুলনায় সাভারকরকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়—এই প্রশ্নের সরাসরি উত্তর দিতে অস্বীকার করেন সত্যকি। তাঁর মন্তব্য, “বিতর্ক ও মতপার্থক্য প্রতিটি মহান ব্যক্তিত্বের জীবনের অংশ। জাতীয় গৌরব তুলে ধরা ভারত সরকারের কাজ।”
সাভারকরকে ‘ভারতরত্ন’ দেওয়ার দাবি সম্পর্কেও তিনি বলেন, কারা এই দাবি তুলেছেন তা তাঁর জানা নেই; জাতীয় সম্মান প্রদানের সিদ্ধান্ত কেন্দ্রীয় সরকারই নেয়। প্রসঙ্গত, তিনি উল্লেখ করেন যে ইন্দিরা গান্ধী, রাজীব গান্ধী এবং জওহরলাল নেহেরু—একই পরিবারের তিন সদস্যই ভারতরত্ন পেয়েছেন।


