সোশ্যাল মিডিয়ায় দুই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর একটি বার্তা! আর তাতেই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়ে গেল বড়সড় জল্পনা। অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা এবং বাংলার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ঠিক কাদের ‘দুঃসময়’ আসার ইঙ্গিত দিলেন? এখন এটাই চর্চার প্রধান বিষয়।
মঙ্গলবার দ্বিতীয়বারের জন্য অসমের মুখ্যমন্ত্রী পদে শপথ নিয়েছেন হিমন্ত বিশ্বশর্মা। অন্যান্য বিজেপি শাসিত রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীদের মতো সেই অনুষ্ঠানে হাজির ছিলেন বাংলার নবনির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও। মজার বিষয় হলো, এই দুই নেতার রাজনৈতিক যাত্রাপথ অনেকটাই একরকম। দু’জনেই কংগ্রেস বা তৃণমূলের মতো দল থেকে এসে বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন, মুখ্যমন্ত্রীর চেয়ারে বসেছেন এবং দলের অন্যতম প্রধান মুখ হয়ে উঠেছেন।
শপথ গ্রহণ পর্বের পর সোশ্যাল মিডিয়ায় শুভেন্দুর সঙ্গে নিজের একটি ছবি টুইটারে পোস্ট করেন হিমন্ত। ক্যাপশনে তিনি লেখেন, “ওদের জন্য খারাপ সময় আসছে।” সেই পোস্টটি রিটুইট করে বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মজার ছলে লেখেন, “দুঃসময়টা ঠিক কাদের জন্য, সেটা আন্দাজ করতে পারলে কোনও পুরস্কার নেই।” অর্থাৎ, সরাসরি নাম না করলেও ইশারাটা কার দিকে, তা বুঝতে আর কারও বাকি নেই।
হিমন্ত এবং শুভেন্দু— দু’জনেই অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে সবসময় কড়া ভাষায় সরব হয়েছেন। এদিন অসমে দাঁড়িয়ে শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, অসমের মডেল অনুসরণ করেই বাংলাকে অনুপ্রবেশকারী মুক্ত করা হবে এবং সীমান্ত আরও সুরক্ষিত করা হবে।
শুভেন্দু বলেন,“দেশের ভালোর জন্য অসমে, ত্রিপুরার যে কাজ হয়েছে, সেই কাজ সম্পূর্ণ করতে বাংলাতেও বিজেপি সরকার করবে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বারবার মিটিংয়ে বলেছেন, বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর অসম, ত্রিপুরায় অনুপ্রবেশ সমস্যা শেষ হয়ে গিয়েছে। বাংলাতেও আগে তুষ্টিকরণের সরকার ছিল। সেই সরকার বিএসএফকে জমি পর্যন্ত দেয়নি। দেশের সুরক্ষায় প্রশ্ন উঠে গিয়েছিল। অনুপ্রবেশ ইস্যু, বাংলাদেশ সীমান্ত সুরক্ষা করার জন্য অসম যে কাজ করেছে, বাংলাতেও সেই পদক্ষেপ করা হবে।”
দুই মুখ্যমন্ত্রীর এই কথাবার্তা এবং সোশ্যাল মিডিয়ার পোস্ট থেকে রাজনৈতিক মহলের ধারণা, তাঁদের নিশানায় আসলে অবৈধ অনুপ্রবেশকারীরা। আর এর থেকেই একটি বড় প্রশ্ন উঠে আসছে— আগামী দিনে কি তাহলে অসমের মতো বাংলাতেও এনআরসি (NRC) চালু হতে চলেছে? দুই মুখ্যমন্ত্রীর বার্তায় সেই ইঙ্গিতই লুকিয়ে রয়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।


