দেশে অর্থনৈতিক চাপ ও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির জেরে সাধারণ মানুষকে খরচ কমানোর বার্তা দিলেও, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর আসন্ন বিদেশ সফর ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। আগামী ১৫ অক্টোবর থেকে ২০ অক্টোবর পর্যন্ত পাঁচটি দেশ সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী এবং তার এই সফরে আনুমানিক খরচ প্রায় ৮০ কোটি বলে জানা গিয়েছে। এই সফরে তিনি সংযুক্ত আরব আমিরশাহী, নেদারল্যান্ডস, সুইডেন, নরওয়ে এবং ইতালি সফর করবেন বলে বিদেশ মন্ত্রক সূত্রে জানা গিয়েছে।সরকারি সূত্রের দাবি, এই সফরের মূল উদ্দেশ্য হল আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও মজবুত করা এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ করা। বিশেষ করে জ্বালানি সহযোগিতা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তি, সেমিকন্ডাক্টর শিল্প এবং পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি নিয়ে একাধিক বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। পাশাপাশি নর্ডিক দেশগুলির সঙ্গে কৌশলগত সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার বিষয়েও আলোচনা হবে বলে জানা গিয়েছে।তবে এই সফর ঘোষণার পরই বিরোধীদের একাংশ কেন্দ্রকে কটাক্ষ করতে শুরু করেছে। কারণ, সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী দেশের মানুষকে একাধিক ক্ষেত্রে সংযম দেখানোর পরামর্শ দিয়েছিলেন। বিভিন্ন সভা ও অনুষ্ঠানে তিনি সাধারণ মানুষকে জ্বালানির ব্যবহার কমানোর কথা বলেন। বাস ও ট্রেনের মতো গণপরিবহণ বেশি ব্যবহার করার আহ্বান জানান। এমনকি কর্মীদের আবার বাড়ি থেকে কাজের সংস্কৃতিতে ফেরার পরামর্শও দেন তিনি।শুধু তাই নয়, অপ্রয়োজনীয় খরচ কমানো এবং বিদেশি পণ্যের উপর নির্ভরতা হ্রাস করার কথাও বলেন প্রধানমন্ত্রী। এই অবস্থাতেই তাঁর একাধিক দেশের সফর নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে রাজনৈতিক মহলে। বিরোধীদের বক্তব্য, সাধারণ মানুষের জন্য মিতব্যয়িতার পরামর্শ দেওয়া হলেও সরকার নিজে সেই পথে হাঁটছে না।অর্থনীতিবিদদের একাংশের মতে, বর্তমানে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি এবং বিশ্বজুড়ে অস্থির পরিস্থিতির কারণে ভারতের উপরও আর্থিক চাপ তৈরি হয়েছে। ইরানকে ঘিরে পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতের প্রভাব বিশ্ববাজারে পড়েছে। অন্যদিকে আমেরিকার নতুন শুল্ক নীতির কারণে ভারতের রপ্তানিতেও প্রভাব পড়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। ফলে বৈদেশিক মুদ্রার ভাণ্ডারের উপর চাপ বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে কেন্দ্রের তরফে আমদানি নির্ভর খরচ কমানোর বার্তা দেওয়া হচ্ছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ। যদিও সরকার এখনও পর্যন্ত অর্থনৈতিক সঙ্কটের আশঙ্কা পুরোপুরি স্বীকার করেনি।
Popular Categories


