অভাবের সংসার, ছোট্ট এক কামরার ভাড়া বাড়ি, তবু স্বপ্ন দেখার সাহস হারাননি কলকাতার কড়েয়া এলাকার ছাত্র গোলাম ফৈজ়ল। চলতি বছরের উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় রাজ্যের প্রথম দশের মেধাতালিকায় জায়গা করে নিয়েছেন তিনি। শুধু তাই নয়, গোটা রাজ্যে চতুর্থ স্থান অর্জন করে সকলকে চমকে দিয়েছেন এই তরুণ পড়ুয়া।ফৈজ়ল ক্যালকাটা মাদ্রাসা এপি ডিপার্টমেন্টের ছাত্র। ৫০০ নম্বরের মধ্যে তিনি পেয়েছেন ৪৯৩। বিভিন্ন বিষয়ে তাঁর নম্বরও নজর কেড়েছে। উর্দু ও অর্থনীতিতে পূর্ণ নম্বর পেয়েছেন তিনি। ইংরেজিতে ৯৮, হিসাবশাস্ত্রে ৯৬ এবং বিজনেস স্টাডিজ়ে ৯৯ নম্বর পেয়েছেন। ফল প্রকাশের পর থেকেই পরিবার, স্কুল এবং প্রতিবেশীদের মধ্যে খুশির পরিবেশ তৈরি হয়েছে।ফৈজ়লের পরিবারে সদস্য সংখ্যা অনেক। চার ভাই ও দুই বোনের সংসার তাঁদের। কড়েয়ার একটি ছোট ভাড়া ঘরেই সকলে একসঙ্গে থাকেন। বাবা পার্ক সার্কাস এলাকায় একটি চায়ের দোকান চালান। সংসারের খরচ চালাতে দুই দিদিও সামান্য উপার্জন করেন। সীমিত আয় নিয়েই কোনও রকমে দিন চলে তাঁদের।এই কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেই নিজের পড়াশোনা চালিয়ে গিয়েছেন ফৈজ়ল। রাতে পড়তে বসলে বাড়ির অন্যদের অসুবিধা হত, কিন্তু পরিবারের কেউ কোনও দিন তাঁকে বাধা দেননি। বরং সকলেই চেয়েছেন, ছোট ছেলে যেন নিজের স্বপ্ন পূরণ করতে পারে। বড় দাদা ও দিদিরাও সব সময় পাশে থেকেছেন।ফল প্রকাশের পর ফৈজ়ল বলেন, তিনি কখনও নম্বর নিয়ে বেশি ভাবেননি। নিজের কাজ মন দিয়ে করে গিয়েছেন। তাঁর কথায়, শিক্ষক ও পরিবারের সমর্থন না থাকলে এই সাফল্য সম্ভব হত না। এক ঘরে এতজন মিলে থাকলেও এখন আর কোনও অসুবিধা হয় না বলেই জানিয়েছেন তিনি। ছোট থেকেই অভাবের সঙ্গে লড়াই করতে করতে মানিয়ে নিতে শিখেছেন।ভবিষ্যতে চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট হওয়ার ইচ্ছে রয়েছে ফৈজ়লের। নিজের পায়ে দাঁড়িয়ে পরিবারের পাশে থাকতে চান তিনি। বিশেষ করে বাবা-মায়ের জন্য একটি বাড়ি তৈরি করার স্বপ্ন দেখছেন এই মেধাবী ছাত্র। তাঁর কথায়, পরিবারের মুখে হাসি ফোটানোই এখন সবচেয়ে বড় লক্ষ্য।ফৈজ়লের এই সাফল্য শুধু তাঁর পরিবারের জন্য নয়, এলাকার বহু পড়ুয়ার কাছেও অনুপ্রেরণা হয়ে উঠেছে। অভাব যে স্বপ্নপূরণের পথে বাধা হতে পারে না, তা আরও একবার প্রমাণ করে দিলেন কড়েয়ার এই মেধাবী ছাত্র।
চায়ের দোকান চালিয়ে সংসার টানে বাবা, এক কামরার বাড়ি, উচ্চ মাধ্যমিকে রাজ্যে চতুর্থ কলকাতার গোলাম ফৈজ়ল
Popular Categories


