কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে বড়সড় স্বস্তি পেলেন ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী জাহাঙ্গির খান। সোমবার হাইকোর্ট স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, ওই কেন্দ্রে নির্বাচন প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত জাহাঙ্গিরের বিরুদ্ধে পুলিশ কোনও কঠোর পদক্ষেপ করতে পারবে না। বিচারপতি সুগত ভট্টাচার্য নির্দেশ দিয়েছেন, তৃণমূল প্রার্থীকে যেন অবাধে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সুযোগ দেওয়া হয়। তবে তদন্তের প্রয়োজনে জাহাঙ্গির পুলিশকে সব রকম সহযোগিতা করবেন। আগামী ২৪ মে পর্যন্ত এই রক্ষাকবচ বহাল থাকবে এবং এ যাবৎ তাঁর বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া সমস্ত এফআইআরের ক্ষেত্রেই এই নির্দেশ কার্যকর হবে।
পুলিশের পক্ষ থেকে আদালতে জানানো হয়েছে, গত ৫ মে ফলতা থানায় জাহাঙ্গিরের বিরুদ্ধে প্রথম এফআইআর দায়ের হয়েছিল। এরপর ১০ মে আরও তিনটি এবং ১৫ মে পঞ্চম মামলাটি রুজু করা হয়। তাঁর বিরুদ্ধে ভোটারদের ভয় দেখানো এবং ভোট প্রক্রিয়ায় কারচুপির মতো গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। এই মামলাগুলির প্রেক্ষিতেই গ্রেফতারির আশঙ্কা প্রকাশ করে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন জাহাঙ্গির খান। তাঁর দাবি ছিল, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যে মামলা দায়ের করা হয়েছে। একই সঙ্গে তাঁর বিরুদ্ধে ঠিক কী কী মামলা রয়েছে, তাও জানতে চান তিনি। সোমবার পুলিশ সেই তালিকা আদালতে পেশ করার পর আদালত নির্দেশ দেয়, আগামী সাত দিনের মধ্যে এফআইআরের প্রতিলিপি জাহাঙ্গিরকে দিতে হবে। আগামী ২৬ মে হাইকোর্টের অবকাশকালীন বেঞ্চে এই মামলার পরবর্তী শুনানি রয়েছে।
তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত জাহাঙ্গির খান গত কয়েক বছরে দক্ষিণ ২৪ পরগনার রাজনীতিতে এক প্রভাবশালী মুখ হয়ে উঠেছেন। এবারের নির্বাচনে ডায়মন্ড হারবার পুলিশ জেলার পুলিশ পর্যবেক্ষক তথা উত্তরপ্রদেশের আইপিএস অফিসার অজয়পাল শর্মার সঙ্গে তাঁর মনস্তাত্ত্বিক লড়াই রাজ্য রাজনীতিতে বেশ চর্চার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। উত্তরপ্রদেশে কড়া পুলিশ অফিসার হিসেবে পরিচিত অজয়পালের সঙ্গে জাহাঙ্গিরের বাকযুদ্ধ ঘিরেও কম শোরগোল হয়নি।
এদিকে ভোট পর্ব মেটার পরেই বিরোধীরা অভিযোগ তোলেন, ফলতার বেশ কিছু বুথে সাধারণ মানুষ ভোট দিতে পারেননি। পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে নির্বাচন কমিশন সেখানে পুনর্নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বিরোধীদের অভিযোগ, ফলতা এবং ডায়মন্ড হারবার লোকসভা এলাকায় জাহাঙ্গিরের নেতৃত্বেই বিভিন্ন সময় অশান্তি, তোলাবাজি ও বুথ দখলের ঘটনা ঘটেছে। এমনকি তাঁর ভয়ে বহু মানুষ এলাকা ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন বলেও বিরোধীরা দাবি করেছেন।
তবে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ সম্পূর্ণ উড়িয়ে দিয়েছেন জাহাঙ্গির খান। গত লোকসভা নির্বাচনে এই এলাকা থেকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে বড় ব্যবধানে লিড পাইয়ে দেওয়ার অন্যতম কারিগর ছিলেন তিনি। শুক্রবার নিজের দলীয় কার্যালয় খুলে তিনি জানান, নির্বাচনের জন্য তিনি সম্পূর্ণ প্রস্তুত। তৃণমূল সরকারের আমলে এলাকায় যে উন্নয়নমূলক কাজ হয়েছে, সাধারণ মানুষ ভোটের মাধ্যমেই তার জবাব দেবেন বলে তিনি আশাপ্রকাশ করেছেন। আপাতত আদালতের এই রক্ষাকবচ নির্বাচনী ময়দানে জাহাঙ্গিরকে অনেকটাই স্বস্তি দিল বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।


