উত্তরপ্রদেশের একটি গ্রামে দলিত সম্প্রদায়ের এক কিশোরের উপর বর্বর অত্যাচারের অভিযোগ ঘিরে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। অভিযোগ, শুধুমাত্র একটি সরকারি হ্যান্ডপাম্প থেকে জল খাওয়া এবং সেখানে রাখা বালতিতে হাত দেওয়ার ‘অপরাধে’ ১৬ বছরের ওই দলিত কিশোরকে মারধর করা হয়। শুধু তাই নয়, তাকে অপমান করার জন্য অমানবিক আচরণও করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি সামনে আসতেই এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়েছে।
জানা গিয়েছে, ঘটনাটি ঘটেছে কানপুরের সচেন্দি থানা এলাকার ঝাখরা-সম্ভারপুর গ্রামে। পুলিশ সূত্রে খবর, গত ২ মে ওই কিশোর বাড়ির কাছেই একটি হ্যান্ডপাম্পে জল খেতে যায়। সেখানে আগে থেকেই কয়েকজন যুবক দাঁড়িয়ে ছিল। অভিযোগ, কিশোরটি হ্যান্ডপাম্পের পাশে রাখা একটি বালতিতে হাত দিতেই তারা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে।
অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তারা প্রথমে ওই কিশোরকে জাতিগত কটূক্তি করতে শুরু করে। এরপর তাকে মারধর করা হয়। লাঠি, ঘুষি ও লাথি মেরে বেধড়ক প্রহার করা হয়েছে বলে অভিযোগ। এমনকি তার জামাকাপড়ও খুলে দেওয়া হয়। পরিবারের দাবি, কিশোরকে জুতোর উপর থুতু ফেলে তা চাটতে বাধ্য করা হয়। পরে সেই জুতোর মধ্যে জল ঢেলে তাকে সেই জল খেতেও বাধ্য করা হয়। ঘটনাকে ঘিরে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে।
এতেই শেষ নয়। অভিযোগ, ঘটনার পরে হ্যান্ডপাম্পের চারপাশে গঙ্গাজল ছিটিয়ে ‘শুদ্ধিকরণ’-এর কাজও করা হয়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের দাবি, এখনও কিছু জায়গায় জাতপাতের বিভাজন ভয়ঙ্করভাবে রয়ে গিয়েছে এবং এই ঘটনা তারই উদাহরণ।
এদিকে ছেলেকে বাঁচাতে গিয়ে আক্রান্ত হন তার বাবাও। তিনি পেশায় কৃষি শ্রমিক বলে জানা গিয়েছে। পরিবারের অভিযোগ, ছেলের উপর হামলার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছতেই তাকেও মারধর করা হয়। হামলায় তাঁর পাঁজরের হাড়ে চোট লাগে। অন্যদিকে, কিশোরের হাত ভেঙে যায় বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন।
প্রথমে আহতদের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হওয়ায় কানপুরের উরসুলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ চারজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে। অভিযুক্তদের নাম সঞ্জয়, দীপক, সাগর ও পাতিয়া বলে জানা গিয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। প্রমাণ ও সাক্ষ্য খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ঘটনায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপের দাবিতে সরব হয়েছে বিভিন্ন মহল।


