বিহারের সাসারাম রেল স্টেশনে সোমবার সকালে বড়সড় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাকে ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়ায়। পটনাগামী একটি ফাস্ট প্যাসেঞ্জার ট্রেনের কামরায় আচমকাই আগুন লেগে যায়। ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্টেশনে উপস্থিত যাত্রী ও রেলকর্মীদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়। যদিও দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ায় বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়েছে বলে জানিয়েছে রেল কর্তৃপক্ষ।
রেল সূত্রে জানা গিয়েছে, সাসারাম থেকে পটনার উদ্দেশে সকালেই ছাড়ার কথা ছিল ট্রেনটির। নির্ধারিত সময়ের কিছু আগে ট্রেনটি প্ল্যাটফর্মে দাঁড়িয়ে ছিল। সেই সময় আচমকা একটি কামরা থেকে ধোঁয়া বেরোতে দেখা যায়। প্রথমে পরিস্থিতির গুরুত্ব বোঝা না গেলেও কিছুক্ষণের মধ্যেই আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে গোটা কামরায়। কালো ধোঁয়ায় ঢেকে যায় প্ল্যাটফর্মের একাংশ।
ঘটনার খবর পেয়েই স্টেশনে ছুটে আসেন দমকল কর্মীরা। পাশাপাশি রেলের আধিকারিক ও নিরাপত্তারক্ষীরাও উদ্ধারকাজে নামেন। স্টেশনের জল সরবরাহ ব্যবস্থার সাহায্যে প্রথমে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করা হয়। পরে দমকলের কর্মীরা আগুন পুরোপুরি নেভাতে সক্ষম হন। বেশ কিছুক্ষণ ধরে চলে এই অভিযান।
প্রাথমিক তদন্তে অনুমান করা হচ্ছে, বৈদ্যুতিক গোলযোগের কারণেই আগুন লাগতে পারে। যদিও ঠিক কী কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে, তা নিশ্চিত ভাবে এখনও বলা হয়নি। রেল কর্তৃপক্ষ পুরো ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।
এই ঘটনায় কেউ আহত হননি বলে খবর। তবে ট্রেনে ওঠার অপেক্ষায় থাকা বহু যাত্রী ভয় পেয়ে যান। অনেকেই তড়িঘড়ি প্ল্যাটফর্ম ছেড়ে নিরাপদ জায়গায় সরে যান। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে কিছুটা সময় লাগে।
অগ্নিকাণ্ডের জেরে ট্রেন চলাচলেও সাময়িক সমস্যা তৈরি হয়। ক্ষতিগ্রস্ত কামরাটিকে ট্রেন থেকে আলাদা করে স্টেশনেই রেখে দেওয়া হয়। পরে বাকি কামরা নিয়ে ট্রেনটি পটনার উদ্দেশে রওনা দেয়। আগুনে পুড়ে যাওয়া অংশ ঘিরে ব্যারিকেড করা হয়েছে যাতে সাধারণ মানুষ সেখানে যেতে না পারেন।
উল্লেখ্য, এর আগের দিনই কেরল থেকে দিল্লিগামী রাজধানী এক্সপ্রেসে ভয়াবহ আগুন লাগার ঘটনা সামনে আসে। রাজস্থানের কোটা রেল ডিভিশনের কাছে সেই ট্রেনের দু’টি কামরা পুড়ে যায়। তার রেশ কাটতে না কাটতেই আবার বিহারে ট্রেনে আগুন লাগার ঘটনায় রেল যাত্রীদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।


