রাজ্যের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিতে এবার ‘বন্দেমাতরম’ গাওয়া নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সরকারি স্কুলগুলির পর এবার মাদ্রাসাগুলিতেও এই জাতীয় গান গাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে রাজ্যের মাদ্রাসা শিক্ষা দফতর। জানা গিয়েছে, এমএসকে-এসএসকে, সরকারি ইংরেজি মাধ্যম মাদ্রাসা এবং স্বীকৃত আন-এডেড মাদ্রাসাগুলিতে প্রার্থনার সময় এই গান গাইতে হবে। বর্তমানে গরমের ছুটি চললেও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুললেই এই নিয়ম কার্যকর হবে বলে খবর।
শিক্ষা দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, বিভিন্ন জেলার স্কুল পরিদর্শক এবং শিক্ষক-শিক্ষিকাদের কাছে ইতিমধ্যেই এই বিষয়ে বার্তা পাঠানো হয়েছে। বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের লেখা ‘আনন্দমঠ’ উপন্যাস থেকে নেওয়া ‘বন্দেমাতরম’ গানটিকেই প্রার্থনা সংগীত হিসেবে গাওয়ার কথা বলা হয়েছে। এর আগে রাজ্যের সরকারি স্কুলগুলিতেও পুরো গান গাওয়ার নির্দেশ জারি হয়েছিল।
এই নির্দেশকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। মাদ্রাসার একাংশের শিক্ষক জানিয়েছেন, সরকারি নির্দেশ মেনে চলা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব। তবে একই সঙ্গে মুসলিম সমাজের একাংশের মধ্যে আপত্তির সুরও শোনা যাচ্ছে। তাঁদের বক্তব্য, ‘বন্দেমাতরম’-এর কিছু অংশ ইসলামের ধর্মীয় বিশ্বাসের সঙ্গে মেলে না। বিশেষ করে গানের পরবর্তী স্তবকে দেবী দুর্গার উল্লেখ থাকায় তা নিয়ে আপত্তি রয়েছে।
ইতিহাস বলছে, স্বাধীনতার আগে থেকেই ‘বন্দেমাতরম’ জাতীয় চেতনার প্রতীক হিসেবে পরিচিত। মহাত্মা গান্ধি, জওহরলাল নেহরু এবং রাজেন্দ্র প্রসাদ-সহ বহু কংগ্রেস নেতা এই গানকে স্বীকৃতি দিয়েছিলেন। তবে জাতীয় গান হিসেবে কেবল প্রথম দুটি স্তবকই গ্রহণ করা হয়েছিল। কারণ ওই অংশে মূলত দেশপ্রেম ও প্রকৃতির সৌন্দর্যের কথা বলা হয়েছে। পরে থাকা স্তবকগুলিতে ধর্মীয় উপমা থাকায় তা নিয়ে বিতর্ক দীর্ঘদিনের।
এই পরিস্থিতিতে বেঙ্গল মাদ্রাসা কল্যাণ সমিতি সরকারের কাছে বিষয়টি পুনর্বিবেচনার আবেদন জানিয়েছে। সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ আশরাফ হোসেন বলেন, মাদ্রাসা সংখ্যালঘুদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। সংবিধান অনুযায়ী ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য বজায় রাখার অধিকার সকলের রয়েছে। তাঁর দাবি, দেশপ্রেম প্রমাণের জন্য কোনও নির্দিষ্ট গান গাওয়া বাধ্যতামূলক হতে পারে না।
তিনি আরও বলেন, সরকারের কাছে নিজেদের মতামত জানানো নাগরিকদের অধিকার। মুখ্যমন্ত্রী বিষয়টি সংবেদনশীলভাবে বিবেচনা করবেন বলেই তাঁরা আশা করছেন। এই নির্দেশ ঘিরে আগামী দিনে রাজ্য রাজনীতিতেও বিতর্ক আরও বাড়তে পারে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।


