ইরানের সঙ্গে সংঘাতে আমেরিকার বড়সড় সামরিক ক্ষতির তথ্য সামনে আসতেই আন্তর্জাতিক মহলে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। মার্কিন কংগ্রেসনাল রিসার্চ সার্ভিসের এক রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, যুদ্ধ চলাকালীন বহু যুদ্ধবিমান ও ড্রোন হারিয়েছে আমেরিকা। কিছু বিমান সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়েছে বলে আশঙ্কা, আবার কিছু এতটাই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে যে সেগুলি আর ব্যবহারযোগ্য নয় বলেও জানা যাচ্ছে।
রিপোর্ট অনুযায়ী, সংঘর্ষে আমেরিকার একাধিক অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান ক্ষতির মুখে পড়েছে। এর মধ্যে রয়েছে F-15E Strike Eagle, F-35A Lightning II, A-10 Thunderbolt II-এর মতো শক্তিশালী যুদ্ধবিমান। পাশাপাশি জ্বালানি সরবরাহকারী বিমান, বিশেষ সামরিক পরিবহণ যান, নজরদারি বিমান এবং ড্রোনও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। তবে ঠিক কতগুলি বিমান সম্পূর্ণভাবে হারিয়েছে, সেই বিষয়ে এখনও স্পষ্ট তথ্য প্রকাশ করেনি মার্কিন প্রশাসন।
জানা গিয়েছে, প্রতিরক্ষা দফতর এবং মার্কিন সেন্ট্রাল কম্যান্ডের বিভিন্ন তথ্য ও যুদ্ধ সংক্রান্ত রিপোর্ট বিশ্লেষণ করেই এই পরিসংখ্যান তৈরি করা হয়েছে। যদিও এই বিষয়ে আমেরিকার তরফে বিস্তারিত সরকারি ব্যাখ্যা এখনও সামনে আসেনি।
এদিকে, পেন্টাগন জানিয়েছে, ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ নামে চালানো সামরিক অভিযানে বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় হয়েছে। মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগের হিসেব অনুযায়ী, যুদ্ধের জন্য প্রায় ২ লক্ষ ৮০ হাজার কোটি টাকার বেশি খরচ হয়েছে। সামরিক সরঞ্জাম মেরামত, নতুন প্রযুক্তি আনা এবং ক্ষতিগ্রস্ত যুদ্ধযান বদলানোর কারণে এই ব্যয় অনেকটাই বেড়েছে বলে জানিয়েছেন প্রতিরক্ষা বিভাগের আধিকারিকরা।
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে আমেরিকা ও ইজরায়েল যৌথভাবে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করে। সেই সময় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই নিহত হন বলে আন্তর্জাতিক মহলে খবর ছড়িয়ে পড়ে। এরপর কিছু সময় যুদ্ধবিরতি থাকলেও দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা এখনও পুরোপুরি কমেনি।
এই পরিস্থিতির মধ্যেই মার্কিন ক্ষয়ক্ষতির রিপোর্ট প্রকাশ্যে আসায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ইরানের বিদেশমন্ত্রী সৈয়দ আব্বাস আরাঘচি এই রিপোর্টের উল্লেখ করে সামাজিক মাধ্যমে আমেরিকাকে কড়া বার্তা দিয়েছেন। তাঁর দাবি, ইরানের সেনাবাহিনী অত্যাধুনিক মার্কিন যুদ্ধবিমানকে সফলভাবে মোকাবিলা করেছে। তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, ভবিষ্যতে আবার হামলা হলে আমেরিকাকে আরও বড় ক্ষতির মুখে পড়তে হতে পারে।
এই ঘটনাকে ঘিরে আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক মহলেও উদ্বেগ বাড়ছে। বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, দুই দেশের সংঘাত দীর্ঘমেয়াদি হলে তার প্রভাব বিশ্ব রাজনীতি ও অর্থনীতির উপরও পড়তে পারে।


