দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার পরিকাঠামো নিয়ে ফের উদ্বেগ বাড়াল নীতি আয়োগের সাম্প্রতিক রিপোর্ট। রিপোর্টে উঠে এসেছে, দেশের বহু স্কুল এখনও ন্যূনতম সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত। বিশেষ করে মেয়েদের জন্য প্রয়োজনীয় শৌচাগারের অভাব পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।
তথ্য অনুযায়ী, দেশের প্রায় ৯৮ হাজারের বেশি স্কুলে ছাত্রীদের জন্য ব্যবহারযোগ্য শৌচাগার নেই। এছাড়াও ৬১ হাজারেরও বেশি স্কুলে কোনও কার্যকরী শৌচাগারই পাওয়া যায় না। ফলে স্কুলে পড়তে আসা ছাত্রছাত্রীদের, বিশেষ করে মেয়েদের, নানা সমস্যার মুখে পড়তে হচ্ছে।
শিক্ষাবিদদের মতে, স্কুলে শৌচাগারের অভাব মেয়েদের পড়াশোনায় বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়। অনেক সময় এই সমস্যার কারণে কিশোরীরা নিয়মিত স্কুলে যেতে পারে না। মাসিকের সময় পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে ওঠে। এর ফলেই বহু ছাত্রী মাঝপথে পড়াশোনা ছেড়ে দিতে বাধ্য হয় বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা।
রিপোর্টে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, শুধু শৌচাগার নয়, দেশের বহু সরকারি স্কুলে বিদ্যুৎ সংযোগও নেই। এক লক্ষের বেশি স্কুল এখনও অন্ধকারেই চলছে। কোথাও পানীয় জলের অভাব, কোথাও আবার বিজ্ঞান ল্যাবরেটরি নেই। বহু স্কুলে পর্যাপ্ত শিক্ষকও নেই। এমনও দেখা গেছে, কিছু স্কুল কাগজে-কলমে থাকলেও সেখানে কোনো ছাত্রছাত্রী পড়াশোনা করে না।
রাজ্যভিত্তিক হিসেবেও বেশ কিছু অসামঞ্জস্য ধরা পড়েছে। মেঘালয়ে পরিস্থিতি সবচেয়ে উদ্বেগজনক বলে জানানো হয়েছে। সেখানে মাত্র ৬৮ শতাংশের কিছু বেশি স্কুলে মেয়েদের জন্য আলাদা শৌচাগারের ব্যবস্থা রয়েছে। অন্যদিকে দিল্লি, চণ্ডীগড়, আন্দামান-নিকোবর ও লাক্ষাদ্বীপে প্রায় সব স্কুলেই এই সুবিধা পৌঁছে গিয়েছে।
পরিসংখ্যান বলছে, ২০১৪ সালে দেশের প্রায় ৮৫ শতাংশ স্কুলে মেয়েদের শৌচাগার ছিল। বর্তমানে সেই সংখ্যা বেড়ে ৯৪ শতাংশে পৌঁছেছে। অর্থাৎ গত এক দশকে কিছুটা উন্নতি হয়েছে। তবে বিশাল সংখ্যক স্কুল এখনও মৌলিক পরিষেবা থেকে বঞ্চিত থাকায় উদ্বেগ থেকেই যাচ্ছে।
এই রিপোর্ট প্রকাশ্যে আসার পর কেন্দ্রীয় সরকারের শিক্ষা ও উন্নয়ন নীতি নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছে বিরোধীরা। তাদের দাবি, মেয়েদের শিক্ষা নিয়ে বিভিন্ন প্রকল্প ঘোষণা করা হলেও বাস্তবে বহু জায়গায় তার প্রভাব দেখা যাচ্ছে না। বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু প্রকল্প ঘোষণা নয়, দ্রুত পরিকাঠামো উন্নয়ন এবং নিয়মিত নজরদারি না হলে সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়।


