দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রে বৃহস্পতিবার শান্তিপূর্ণ পরিবেশে সম্পন্ন হল পুনর্নির্বাচন। সকাল থেকেই বিভিন্ন বুথে ভোটারদের লম্বা লাইন নজরে পড়ে। দীর্ঘদিন ধরে এই কেন্দ্রকে তৃণমূল কংগ্রেসের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে ধরা হলেও এবারের ভোটে অন্য ছবি দেখা গেল বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশ।
এর আগে দ্বিতীয় দফার ভোটগ্রহণে ইভিএমে অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। সেই অভিযোগকে গুরুত্ব দিয়েই নির্বাচন কমিশন ওই ভোট বাতিল করে নতুন করে ভোটের নির্দেশ দেয়। কমিশনের তত্ত্বাবধানে বৃহস্পতিবার কেন্দ্রের ২৮৫টি বুথে পুনরায় ভোটগ্রহণ হয়। গোটা এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করতে মোতায়েন করা হয়েছিল প্রায় ৩৫ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী। অধিকাংশ বুথেই নিরাপত্তার কড়া নজরদারি দেখা যায়।
দিনভর কোথাও বড় ধরনের অশান্তির খবর না মিললেও রাজনৈতিক উত্তেজনা ছিল স্পষ্ট। তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির খান এই নির্বাচনী লড়াইয়ে কার্যত অনুপস্থিত থাকায় বিরোধীদের মধ্যে আত্মবিশ্বাস আরও বেড়েছে। বিজেপি প্রার্থী দেবাংশু পণ্ডা ভোটের দিন বিভিন্ন বুথ ঘুরে কর্মীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং জয় নিয়ে যথেষ্ট আশাবাদী মনোভাব প্রকাশ করেন। তাঁর দাবি, বিপুল ব্যবধানে বিজেপি জয় পাবে। ভোটের পরিবেশ ও মানুষের সাড়া দেখে তিনি অত্যন্ত সন্তুষ্ট বলেও জানান।
অন্যদিকে, তৃণমূলের শিবিরে এদিন বিশেষ তৎপরতা চোখে পড়েনি। জাহাঙ্গির খানের বাড়ি ও দলীয় কার্যালয়ের আশপাশ ছিল অনেকটাই নিস্তব্ধ। তবে তাঁর স্ত্রী রেজিনা বিবি ভোট দিতে বের হন। সংবাদমাধ্যম তাঁর সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করলেও তিনি কোনও মন্তব্য না করে দ্রুত বুথের দিকে চলে যান।
ভোটের হারও ছিল উল্লেখযোগ্য। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, দিনের শেষে প্রায় ৮৭ শতাংশের বেশি ভোট পড়েছে। এই উচ্চ ভোটদানের হারকে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার পক্ষে ইতিবাচক বলেই মনে করছে প্রশাসন। ফলতার এই পুনর্নির্বাচনকে ঘিরে সাধারণ মানুষের মধ্যে উৎসবের আবহ তৈরি হয়েছিল। অনেকেই সকাল সকাল ভোট দিতে বুথে পৌঁছে যান। ভোট শেষে চায়ের দোকান থেকে বাজার—সব জায়গাতেই ছিল রাজনৈতিক আলোচনা।


