উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন পশুহাটে এবার কুরবানির আগে একেবারেই অন্য ছবি দেখা যাচ্ছে। প্রতি বছরের মতো ভিড়, কেনাবেচা বা দরদামের ব্যস্ততা নেই। বরং গরু নিয়ে হাটে এসে হতাশ হয়ে ফিরছেন বহু গো-পালক। বুধবার চাঁচল হাটের পর বৃহস্পতিবার সামসী হাটেও একই পরিস্থিতি চোখে পড়ে। প্রচুর গরু হাটে আনা হলেও ক্রেতার সংখ্যা ছিল খুবই কম। যারা এসেছেন, তারাও অনেক কম দাম বলছেন বলে অভিযোগ বিক্রেতাদের।
চাঁচল-২ ব্লকের কাজলদিঘি গ্রামের বাসিন্দা তুলসীরাম ঘোষ পাঁচটি গরু নিয়ে সামসী হাটে এসেছিলেন। কিন্তু দিনভর অপেক্ষা করেও একটি গরুও বিক্রি করতে পারেননি। তিনি জানান, ধারদেনা শোধের আশাতেই গরুগুলি বিক্রির জন্য এনেছিলেন। স্থানীয় মহাজনের কাছ থেকে সুদে টাকা ধার নিয়েছিলেন। ভেবেছিলেন ঈদের আগে ভালো দাম পাবেন। কিন্তু এখন সেই আশা প্রায় শেষ হয়ে গিয়েছে। শুধু তুলসীরাম নন, তাঁর মতো আরও অনেক খামারি একই সমস্যার মুখে পড়েছেন।
গো-পালকদের বক্তব্য, প্রতিদিন একটি গরুর খাবারের জন্য কয়েকশো টাকা খরচ হচ্ছে। অথচ বিক্রি না হওয়ায় সেই খরচও এখন বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে। আগে এই সময় জেলার বিভিন্ন পশুহাটে হাজার হাজার গরু কেনাবেচা হত। কুরবানির ঈদকে ঘিরে ব্যবসা জমজমাট থাকত। কিন্তু এ বছর পরিস্থিতি পুরো উল্টো।
সম্প্রতি রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে পুরনো পশু হত্যা সংক্রান্ত আইন কঠোরভাবে কার্যকর করার কথা জানানো হয়েছে। সেই নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, নির্দিষ্ট বয়সের বেশি গবাদি পশু জবাই করতে গেলে সরকারি পশু চিকিৎসক ও স্থানীয় প্রশাসনের যৌথ অনুমতি প্রয়োজন হবে। এই নিয়ম ঘিরেই সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে।
মুসলিম সমাজের বিভিন্ন সংগঠন ও ধর্মীয় নেতারাও অনেক জায়গায় গরু কুরবানি না দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। সামাজিক মাধ্যমেও এই বার্তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। ফলে অনেকেই এবার গরুর বদলে ছাগল বা ভেড়া কুরবানির দিকে ঝুঁকছেন বলে জানা যাচ্ছে।
খামারি ও ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, গবাদি পশুর বয়স নির্ধারণ এবং প্রয়োজনীয় শংসাপত্র পাওয়ার স্পষ্ট ব্যবস্থা না থাকায় তারা ভয় ও অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন। আইন ভাঙার অভিযোগ উঠলে সমস্যায় পড়তে হতে পারে, এই আশঙ্কায় অনেকেই ব্যবসা থেকে সরে দাঁড়াচ্ছেন।
এর প্রভাব পড়েছে স্থানীয় বাজার ও অর্থনীতিতেও। বছরের এই সময় পশুহাটকে কেন্দ্র করে বহু মানুষের রোজগার হয়। কিন্তু ক্রেতা না থাকায় এখন হাটগুলিতে প্রায় সারাদিন অলস সময় কাটছে বিক্রেতাদের। ফলে ঈদের আগে এমন পরিস্থিতিতে উদ্বেগ বাড়ছে গো-পালক ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে।


