আসন্ন বকরিদ উৎসবের আগে কর্নাটকের হাসান জেলায় গবাদি পশুর সাপ্তাহিক হাটকে কেন্দ্র করে তীব্র উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। তথাকথিত হিন্দুত্ববাদী ডানপন্থী সংগঠন ও প্রশাসনের একাংশের ক্রমাগত হেনস্থা এবং হুমকির প্রতিবাদে স্থানীয় মুসলিম সংগঠনগুলি এবার গবাদি পশু কেনা সম্পূর্ণ বয়কট করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আর মুসলিম সম্প্রদায়ের এই আকস্মিক বয়কটের জেরে চরম আর্থিক সংকটের মুখে পড়েছেন স্থানীয় হিন্দু দুগ্ধ চাষিরা। বিক্রি না হওয়া পশু নিয়ে হাটে বসে থাকা ক্ষুব্ধ চাষিরা স্পষ্ট জানিয়েছেন, এই অচলাবস্থার জেরে তাঁদের জীবিকা ক্ষতিগ্রস্ত হলে তাঁরা সমস্ত গবাদি পশু নিয়ে সরাসরি ডেপুটি কমিশনারের দফতরের সামনে গিয়ে বিক্ষোভ দেখাবেন।
ঠিক এক সপ্তাহ আগে হাসান জেলায় গবাদি পশু পরিবহনকারী ১১টি গাড়িকে মাঝরাস্তায় আটকে জোরপূর্বক সমস্ত পশু কেড়ে নেয় পুলিশ ও ডানপন্থী কর্মীরা। এই ঘটনার প্রতিবাদেই মূলত বয়কটের ডাক দেয় মুসলিম সমাজ। উৎসবের মরশুমে ভালো বিক্রির আশায় পার্শ্ববর্তী জেলাগুলি থেকে শত শত হিন্দু চাষি মঙ্গলবার সকাল সকাল হাসানের ঐতিহ্যবাহী সাপ্তাহিক হাটে এসে উপস্থিত হয়েছিলেন। কিন্তু হাটে এসে তাঁরা দেখেন, পশু কেনার জন্য কোনো মুসলিম ক্রেতাই নেই। ভোর থেকে চলা এই হাটে প্রতি বছর বকরিদের আগে কোটি কোটি টাকার ব্যবসা হয়। চাষিরা তাঁদের অনুৎপাদক বা বয়স্ক পশু বিক্রি করে সেই টাকা দিয়ে আগামী চাষের মরশুমের বীজ ও সার কেনেন। কিন্তু মুসলিম প্রধান এলাকাগুলিতে বাড়িঘর গুঁড়িয়ে দেওয়ার উস্কানিমূলক পোস্টার ও লাগাতার হেনস্থার কারণে নিরাপত্তার স্বার্থে মুসলিম সমাজ এই বয়কটের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
২০২০ সালে রাজ্যের পূর্বতন বিজেপি সরকার যখন ‘কর্নাটক গবাদি পশু জবাই রোধ ও সংরক্ষণ আইন’ পাস করে, তখন থেকেই এই সংকট তৈরি হয়েছে। এই আইনের জেরে দুধ দেওয়া বন্ধ করার পর বয়স্ক পশুদের বসিয়ে খাওয়াতে গিয়ে সর্বস্বান্ত হচ্ছেন গরিব হিন্দু চাষিরা। বিজেপি সরকারের আনা এই জনবিরোধী আইনের জেরেই আজ কর্নাটকের গ্রামীণ অর্থনীতি, হিন্দু চাষি এবং মুসলিম ব্যবসায়ী—উভয় পক্ষই এক চরম সংকটের মুখে এসে দাঁড়িয়েছে।


