পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক পালাবদলের পর থেকেই বিভিন্ন জায়গায় তৃণমূল কংগ্রেসের নেতাদের জনরোষের মুখে পড়তে হচ্ছে। এরই মধ্যে সোনারপুরে এক কর্মসূচিতে গিয়ে হামলার মুখে পড়েন দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক ও ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে।
অভিযোগ, কর্মসূচির সময় অভিষেককে লক্ষ্য করে ডিম ছোড়া হয়। ধস্তাধস্তির মধ্যে তাঁর জামাও ছিঁড়ে যায়। পরিস্থিতি সামাল দিতে নিরাপত্তারক্ষীরা দ্রুত তাঁকে ঘিরে ফেলেন। মাথায় আঘাত এড়াতে হেলমেট পরে এলাকা ছাড়তে হয় তাঁকে। এই ঘটনার পর রাজনৈতিক মহলে নানা প্রতিক্রিয়া সামনে এসেছে।
অভিষেকের উপর হামলার ঘটনায় বিরোধী শিবিরের একাধিক নেতা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। কংগ্রেস নেতা ও লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী ফোন করে তাঁর খোঁজ নেন বলে জানা গিয়েছে। পাশাপাশি কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়্গে, আম আদমি পার্টির নেতা অরবিন্দ কেজরীবাল এবং সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদবও ঘটনার নিন্দা করেছেন।
উল্লেখ্য, ভোটার তালিকা সংশোধন এবং এসআইআর ইস্যু নিয়ে সম্প্রতি বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’-র মধ্যে রাজনৈতিক আলোচনা তীব্র হয়েছিল। সেই সময় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেছিলেন, দেশের বিভিন্ন জায়গায় ভোটার তালিকায় অনিয়ম হচ্ছে এবং বিরোধী দলগুলিকে আরও সতর্ক হতে হবে। তাঁর এই মন্তব্য নিয়ে কংগ্রেসের মধ্যেও বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। প্রদেশ কংগ্রেসের প্রাক্তন সভাপতি অধীর রঞ্জন চৌধুরী তখন দাবি করেছিলেন, ভোট সংক্রান্ত বিষয়গুলি প্রথম থেকেই রাহুল গান্ধী তুলে ধরেছিলেন।
সোনারপুরের ঘটনার পর সামাজিক মাধ্যমে একটি বার্তা দেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানে তিনি রাহুল গান্ধীকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, গণতন্ত্র, সংবিধান এবং দেশের প্রতিষ্ঠানগুলিকে রক্ষার লড়াইয়ে বিরোধী শক্তিগুলিকে একসঙ্গে থাকতে হবে। পাশাপাশি তিনি বিজেপির বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অভিযোগও তোলেন।


