জাতীয় স্তরের ডাক্তারির প্রবেশিকা পরীক্ষা নিট-এর প্রশ্নফাঁস কেলেঙ্কারি এবার কেড়ে নিল এক তরতাজা ছাত্রীর প্রাণ। প্রশ্নফাঁস ও পরীক্ষা বাতিলের জেরে তীব্র হতাশায় ভুগে আত্মহত্যার পথ বেছে নিলেন ১৮ বছর বয়সী নিট পরীক্ষার্থী আকাঙ্ক্ষা চতুর্বেদী। মধ্যপ্রদেশের মৌগঞ্জ জেলার বাসিন্দা ওই তরুণী নাগপুরে থেকে ডাক্তারির প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। এই প্রথম নিট কেলেঙ্কারির জেরে কোনো পরীক্ষার্থীর আত্মহত্যার মর্মান্তিক ঘটনা প্রকাশ্যে এল, যা গোটা দেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে দিয়েছে।
আকাঙ্ক্ষার বাবা পেশায় কৃষক। মেয়ের ডাক্তার হওয়ার স্বপ্নপূরণ করতে কিষান ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে তিন লক্ষ টাকা ঋণ নেওয়ার পাশাপাশি আত্মীয়দের কাছ থেকেও মোটা টাকা ধার করেছিলেন। পরিবারের আশা ছিল, একমাত্র মেয়ে চিকিৎসক হয়ে সব ঋণ শোধ করে দেবে। প্রথমবার পরীক্ষা দিয়ে এসে আকাঙ্ক্ষা বেশ খুশিই ছিলেন এবং তাঁর ৬৫০-এর কাছাকাছি নম্বর পাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু দেশজুড়ে প্রশ্নফাঁসের খবর সামনে আসতেই তীব্র মানসিক অবসাদে ভেঙে পড়েন তিনি। খাওয়া-দাওয়া ও কথা বলা বন্ধ করে দিয়েছিলেন। শেষপর্যন্ত সেই মানসিক চাপ সহ্য করতে না পেরে নিজের হোস্টেলের ঘরে আত্মঘাতী হন তিনি।
মৃত্যুর আগে মা-বাবার উদ্দেশ্যে একটি চিরকুট লিখে গিয়েছেন আকাঙ্ক্ষা। সেখানে তিনি জানিয়েছেন যে, প্রথমবার ভালো পরীক্ষা দিলেও নতুন করে আবার নিট পরীক্ষা দেওয়ার মতো মানসিক সাহস বা ক্ষমতা তাঁর আর নেই। মা-বাবার বিশ্বাস ভাঙার জন্য ক্ষমাও চেয়েছেন তিনি। এই ঘটনায় নিট পরীক্ষার্থীদের মানসিক পরিস্থিতি এবং পরীক্ষা নিয়ামক সংস্থার চরম ব্যর্থতা নিয়ে দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভের আগুন জ্বলে উঠেছে। একটি দুর্নীতি কীভাবে একটি মধ্যবিত্ত পরিবারের স্বপ্ন ও এক মেধাবী ছাত্রীর প্রাণ কেড়ে নিল, এই ঘটনা তারই এক করুণ উদাহরণ।


