গুজরাটের সুরাট শহরে এক অদ্ভুত ঘটনাকে ঘিরে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। কাটারগাম এলাকার নশির নগরে একদিনে ১০০-রও বেশি বাড়ি ভেঙে ফেলা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। কিন্তু এত বড় অভিযানের নির্দেশ কে দিয়েছিল, সেই প্রশ্নের উত্তর এখনও মেলেনি। প্রশাসনের কোনও দপ্তরই এই ঘটনার দায় স্বীকার করছে না। ফলে গোটা ঘটনাকে ঘিরে রহস্য আরও গভীর হয়েছে।
গত ৩০ মে এই ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, সেদিন এলাকায় বুলডোজার ও অন্যান্য ভারী যন্ত্র নিয়ে এসে একের পর এক ঘরবাড়ি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। ঘটনাস্থলে সুরাট মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশনের (এসএমসি) কর্মী এবং পুলিশও উপস্থিত ছিলেন বলে অভিযোগ। ফলে সাধারণ মানুষের মনে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠেছে, যদি প্রশাসনের প্রতিনিধিরা সেখানে উপস্থিত থাকেন, তাহলে এই অভিযানের অনুমতি কে দিয়েছিল?
স্থানীয় সূত্রের খবর, নশির নগরের পিছনে একটি বেসরকারি নির্মাণ প্রকল্পের জন্য রাস্তা তৈরির উদ্দেশ্যেই এই ভাঙচুর চালানো হয়ে থাকতে পারে। সেই কারণেই এলাকার বহু বাড়ি সরিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। তবে এই অভিযোগ নিয়ে এখনও কোনও সরকারি ব্যাখ্যা সামনে আসেনি।
কাটারগামের বিধায়ক ভিনু মোরাডিয়া এই ঘটনাকে অত্যন্ত গুরুতর বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, বিষয়টি নিয়ে তিনি পুর কমিশনারের সঙ্গে কথা বলেছেন। কমিশনার তাঁকে জানিয়েছেন যে, এসএমসি কোনও ভাঙার নির্দেশ দেয়নি। বিধায়কের বক্তব্য, যদি পুরসভা এই কাজ না করে থাকে, তাহলে কারা এমন অভিযান চালাল তা খুঁজে বের করা জরুরি। কারণ আইন অনুযায়ী সাধারণভাবে কোনও সংস্থা বা ব্যক্তি নিজের ইচ্ছামতো মানুষের বাড়ি ভেঙে দিতে পারে না।
এদিকে এসএমসির স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারম্যান রাজন প্যাটেলও জানিয়েছেন, পুরসভা এই ঘটনায় জড়িত নয়। তিনি বলেন, পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখতে উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের দিয়ে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে পুর কমিশনার এম নাগারাজন জানান, পুরসভার দল ওই এলাকায় গিয়েছিল শুধুমাত্র জমির সীমানা নির্ধারণ সংক্রান্ত একটি পুরনো সমস্যার সমাধানের জন্য। সেই সময় অন্য কোনও পক্ষ কিছু কাঠামো ভেঙে থাকতে পারে। সংশ্লিষ্ট জমি একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মালিকানাধীন বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তবে এই ভাঙচুরের সঙ্গে পুরসভার কোনও সম্পর্ক নেই বলে স্পষ্ট দাবি করেন তিনি।
ঘটনার পর থেকে এলাকায় ক্ষোভ ও উদ্বেগ ছড়িয়েছে। একদিকে শতাধিক বাড়ি ভেঙে ফেলা হয়েছে, অন্যদিকে তার দায়িত্ব কেউ নিচ্ছে না। প্রশাসন ও পুলিশের উপস্থিতিতে কীভাবে এমন বড় অভিযান পরিচালিত হল, তা নিয়ে এখন একাধিক প্রশ্ন উঠছে। সত্যিই কে এই ভাঙচুর চালিয়েছে, তার উত্তর খুঁজতেই শুরু হয়েছে সরকারি তদন্ত।


